Saturday, January 30, 2016

সহজ ৫টি উপায়ে অস্থি সন্ধির ব্যথা দূর করে ফেলুন চিরতরে

sasthobarta protidin
সহজ ৫টি উপায়ে অস্থি সন্ধির ব্যথা দূর করে ফেলুন চিরতরে 
হাড়ের সংযোগস্থলকে অস্থি সন্ধি বা জয়েন্ট বলা হয়ে থাকে। সাধারণত বয়স্ক মানুষদের এই জয়েন্টের ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। তবে বর্তমান সময়ে অনেক তরুণদের এই ব্যথায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। বাতের কারণে এই ব্যথা দেখা দিলেও বাত ছাড়াও আরও কিছু কারণ এই ব্যথার জন্য দায়ী। ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া হয়ে থাকে এই ব্যথা রোধ করার জন্য। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া কিডনির জন্য ক্ষতিকর। কিডনি সুস্থ রাখার জন্য ব্যথানাশক ঔষধ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ব্যায়াম, মেডিটেশন হতে পারে এই ব্যথা দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।
  • হাড়ের অস্থি সন্ধি বা জয়েন্ট ব্যথার কারণ
  • হাড়ের ব্যথা এবং হাড় ভাঙ্গা
  • বাত
  • হাড়ের ইনফেকশন
  • জোড়ার পেশি, লিগামেন্ট, ক্যাপসুল (আবরণ) ও মেনিসকাস ইনজুরি
  • লুপিস
  • অসটিওপোরোসিস ও অসটিওমালাসিয়া
  • ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি ও সি’র অভাব
  • ক্যান্সার

ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১। ইপসোম সল্ট

ইপসোম সল্টের উচ্চ ম্যাগনেশিয়াম অস্থি সন্ধির ব্যথা কমিয়ে দিয়ে থাকে। এক বালতি কুসুম গরম পানিতে আধা কাপ ইপসোম সল্ট মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে আপনি আপনার অস্থি সন্ধি ভিজিয়ে রাখুন। এছাড়া ইপসোম সল্ট ভেজানো পানি দিয়ে গোসল করুন।
২। হলুদ এবং আদা চা

হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে পা ফোলা রোধ করে থাকেন। আদা এবং হলুদের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান অস্থি সন্ধির ব্যথা হ্রাস করে থাকে। ২ কাপ গরম পানিতে ১/২ চা চামচ আদা কুচি এবং ১/২ চা চামচ হলুদ দিয়ে জ্বাল দিন। অল্প আঁচে ১০-১৫ মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে মধু মেশাতে পারেন। এটি দিনে ২ বার পান করুন। ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকলে মধু খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
৩। পেঁয়াজ

কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও পেঁয়াজ আপনার অস্থি সন্ধির ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। পেঁয়াজের সালফার একটি অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান আছে। গবেষণায় দেখা গেছে পেঁয়াজের মর্ফিন উপাদান অস্থিমজ্জার ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পেঁয়াজ রাখুন।
৪। মেথি

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান সমৃদ্ধ মেথি অস্থি সন্ধির ব্যথা বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। ১ চা চামচ মেথি গুঁড়ো এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিন।  এটি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। এছাড়া মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে খালি পেটে এটি পান করুন।
৫। গাজর

চাইনিজ ব্যথানাশক ঔষুধে গাজর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি পাত্রে গাজর কুচি করে নিন, এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি সিদ্ধ করে অথবা কাঁচা অবস্থা খেতে পারেন। নিয়মিত এই পানীয় পানে অস্থি সন্ধি ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
পেইন কিলার বা ব্যথানাশক ঔষুধ অস্থি সন্ধির সমস্যা দূর করতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন ব্যয়াম, সঠিক ডায়েট এবং তার সাথে এই কাজগুলো নিয়মিত করুন। ব্যথা কিছুদিনের মধ্যে দূর হয়ে যাবে।

"স্বাস্থ্যকর" এই জিনিসগুলো কিনে অযথা টাকা খরচ করবেন না

sasthobarta protidin
"স্বাস্থ্যকর" এই জিনিসগুলো কিনে অযথা টাকা খরচ করবেন না 
সুস্থ থাকার জন্য আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। এই চেষ্টার কারণে বিভিন্ন পণ্য কেনার প্রতিও অনেকের ঝোঁক দেখা যায়। কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য কি আসলেই বেশি দামী দামী পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজন আছে? এগুলো ব্যবহার না করলে কি আপনি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? আসলে কিন্তু এমন কিছু পণ্য আছে যেগুলো কেনা মানেই অযথা টাকা খরচ। জেনে নিন এসব পণ্যের ব্যাপারে।
১) মাউথওয়াশ

আপনি যদি নিয়মিত ব্রাশ করেন, ফ্লস করেন এবং যথাসময়ে ডেন্টিস্ট দেখান তাহলে আসলে আপনার মাউথওয়াশ আলাদা করে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। ডেন্টিস্ট যদি আপনাকে ব্যবহার করতে বলে তাহলেই ব্যবহার করুন। কিন্তু বেশীরভাগ সময়েই আসলে মাউথওয়াশ তেমন একটা উপকার করে না। এটা ব্যাকটেরিয়া মারে বটে, কিন্তু বেশীক্ষণ এর প্রভাব স্থায়ী হয় না। বরং এটা আপনার মুখ শুকিয়ে দিতে পারে, এতে উল্টো বাড়তে পারে ব্যাকটেরিয়ার গ্রোথ। দরকার মনে করলে আপনার ডেন্টিস্টের সাথে কথা বলেই জেনে নিন কোন মাউথওয়াশটি আপনার ব্যবহার করা ঠিক হবে।
২) ভিটামিন সি

অনেকেই মনে করেন সিভিট বা ভিটামিন সি ট্যাবলেটগুলো খেলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। এর ফলে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আসা ছোটখাটো ফ্লু, জ্বর, ঠাণ্ডা এসব কমানো সম্ভব হয়। এছাড়াও ক্যান্সার, হৃদরোগ, বার্ধক্যজনিত ম্যাকুলার রোগ এসবের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি। কিন্তু জেনে রাখা দরকার যে এই উপকার পাওয়া যাবে আপনি যদি খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন সি গ্রহণ করেন, তাহলেই। অর্থাৎ লেবু, কমলা এবং ভিটামিন সি আছে এমন খাবার খেতে হবে। তাহলেই উপকারিতা পাওয়া যাবে। আপনি যদি ভিটামিন সি ট্যাবলেট গ্রহণ করেন তাহলে আসলে সেটা আপনার ইউরিনের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি।
৩) দামী সানস্ক্রিন

দামী সানস্ক্রিন মানেই যে তা বেশি কার্যকরী, এমনটা কিন্তু নয়। আপনি যদি দামী সানস্ক্রিন অল্প একটু করে ব্যবহার করেন, তাহলে আসলে মোটের ওপর লাভ হবেই না। বরং কমদামী অথচ কার্যকরী একটা সানস্ক্রিন কিনে তা পরিমাণমতো ব্যবহার করলে আপনার উপকার হবে।
৪) কান পরিষ্কারের কটন বাড

কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করলে আপনি কানের সমস্যায় ভুগবেন, এতে আপনার কানের ডাক্তারের পকেট ভারি হবে। আমাদের কানের ময়লা আসলে আমাদের উপকারই করে। এটা কানকে বহিরাগত বিভিন্ন ময়লা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এছাড়াও এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যও আছে। আপনি যদি কটন বাড ব্যবহার করেন তাহলে সেটা এই ময়লাকে আরও পেছনের দিকে ঠেলে দেবে, যার ফলে আপনার শ্রবণশক্তি কমে যাবে, অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে।
৫) চোখের লালচেভাবের জন্য আই ড্রপ

নিয়মিত আই ড্রপ ব্যবহার না করাই ভালো। এতে চোখের বড় কোনো সমস্যা ঢাকা পড়ে যেতে পারে। এমনকি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আপনার চোখ সহজেই অস্বস্তিতে ভুগতে পারে। চোখ লাল হয়ে থাকলে আগে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন কোনো সমস্যা আছে কিনা।

দীর্ঘদিন বাঁচতে চান? প্রতিদিন পান করুন জাদুকরী এই পানীয়

sasthobarta protidin
প্রতিদিন পান করুন জাদুকরী এই পানীয় 
অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনিয়মন্ত্রাতিক জীবন যাপন আমাদের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেকদিন বেঁচে থাকত। তার পিছনে মূল কারণ ছিল স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, ভেজালমুক্ত খাবার। বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর যুগে  জীবনযাত্রা যত সহজ হচ্ছে আমাদের আয়ু তত কমে আসছে। নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব হচ্ছে। সম্পূর্ণ জীবনযাত্রা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে সহজ এক উপায়ে আপনার লাইফস্প্যান বা আয়ু বৃদ্ধি করা সম্ভব। আদা, গাজর, লেবুর রস, আপেল দিয়ে তৈরি এই পানীয়টি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। এতে কোন রাসায়নিক পদার্থ না থাকায় এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই ম্যাজিক্যাল পানীয়টি।
উপকরণ:

২ সে.মি লম্বা আদা
৪টি গাজর
৩টি আপেল
অর্ধেকটা লেবুর রস
যেভাবে তৈরি করবেন:

১। আপেল, আদা, গাজর এবং লেবুর রস সব ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন।
২। লক্ষ্য রাখবেন আপেল, আদা, গাজর যেন ভালভাবে মিশে যায়।
৩। এটি প্রতিদিন সকালের নাস্তা খাওয়ার আগে পান করুন।
৪। সবচেয়ে ভাল হয় প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন তৈরি করে নেওয়া।
যেভাবে কাজ করে:

আদার উপকারিতা-
আদা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
এটি পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং পাকস্থলীর অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা দূর করে থাকে।
আদা মাইগ্রেন এবং মাথা ব্যথা দূর করতে অনেক বেশি কার্যকর।
গাজরের উপকারিতা-
গাজর দাঁত, চোখ, হার্ট এর জন্য অনেক উপকারী।
এটি আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস করে।
আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও গাজরের ভূমিকা রয়েছে।
আপেলের উপকারিতা-
আপেল আপনার আভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে।
এটি আপনার ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে এবং  কিডনি ও লিভারকে সুস্থ রাখে।  
আপেল বিষণ্ণতা, হতাশা, অনিদ্রা দূর করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।
লেবুর রসের উপকারিতা-
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে লেবুর রস বেশ কার্যকরী।
এটি শরীরের নানা প্রকার ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।
দেহের আভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করতেও লেবু বেশ উপকারী।
এই একটি পানীয় প্রতিদিন পানে আপনি পেয়ে যেতে পারেন দীর্ঘজীবন।

Tuesday, January 26, 2016

মাথাব্যথার ধরন বুঝে চিকিৎসা

sasthobarta protidin
মাথাব্যথার ধরন বুঝে চিকিৎসা
মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অতিপরিচিত সমস্যা। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত—সব বয়সেই মাথাব্যথা হতে পারে। কেউ আধকপালি মাথাব্যথা (মাইগ্রেন), কেউ মাংসপেশির সংকোচনজনিত মাথাব্যথা (টেনশন টাইপ হেডেক) আর কেউ দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথায় (ক্রনিক ডেইলি হেডেক) ভোগে। মাথাব্যথা প্রধানত দুই প্রকার: ১. প্রাইমারি হেডেক (যেমন: মাইগ্রেন, টেনশন টাইপ হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি) ও ২. সেকেন্ডারি হেডেক (যেমন: সাইনুসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস, স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় আঘাতজনিত ব্যথা ইত্যাদি)।
চিকিৎসা ও প্রতিকার: মাথাব্যথার ধরন বা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। এ জন্য প্রথমে প্রয়োজন রোগনির্ণয়। তাৎক্ষণিক ব্যথা নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন বেদনানাশক ওষুধ রয়েছে। তবে সেগুলো অতিরিক্ত সেবন করলেও মাথাব্যথা হতে পারে। তাই নিরুপায় না হলে এমন ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত চা-কফি পান, অনিয়মিত এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, রোদ বা অতিরিক্ত গরম, অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধা, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে মাথাব্যথা হয়। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক হলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমবে।

তীব্র শীতে শিশুর যত্নে ৭ পরামর্শ

sasthobarta protidin
তীব্র শীতে শিশুর যত্নে ৭ পরামর্শ
হঠাৎ তীব্র ঠান্ডায় সোনামণিরা সহজেই কাবু হতে পারে। এ সময় শিশুদের জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা।
: খুব ভোরে আর সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। নবজাতকের শরীরে কাঁথা দিয়ে মুখ, নাক ঢেকে দিন। তবে শ্বাস যেন বন্ধ না হয়ে যায়। ঠান্ডা থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো ও সাশ্রয়ী উপায় হলো নবজাতকের জামা খুলে মায়ের বুকের কাছে মায়ের কাপড়ের নিচে তাকে ঢুকিয়ে দেওয়া।
: উষ্ণতার জন্য রুম হিটার ব্যবহার করলে লক্ষ্য রাখবেন যেন ঘর বেশি শুষ্ক না হয়ে যায়।
: খুব বেশি শীতে ছোট শিশুদের নিয়ে বাইরে বের না হওয়াই ভালো। খুব বেশি ঠান্ডায় শিশুকে গোসল না করিয়ে গরম পানিতে পাতলা কাপড় ভিজিয়ে সারা শরীর বিশেষ করে মুখের ভেতর, বগল, কুঁচকি, মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তার চারপাশ মুছে দিতে পারেন।
: একটু বড় বাচ্চাদের ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে খুব মোটা কাপড় না পরিয়ে কয়েক স্তরের কাপড় পরান। বাইরে বের হলে হাতমোজা, কানটুপি পরাবেন। বাড়িতে সব সময় পায়ে স্যান্ডেল পরান।
: বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার আগে কাপড় পাল্টে পরিচ্ছন্ন হয়ে নিন। সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন।
: তীব্র শীতে শিশুর ত্বকে লোশন ব্যবহার না করে ভেসলিন বা ক্রিম লাগান, মুখ ছাড়া অন্যত্র অলিভ অয়েলও লাগাতে পারেন।
: এই আবহাওয়ায় শিশুদের জ্বর-কাশির বেশির ভাগই ভাইরাসজনিত। জ্বরের জন্য পেরাসিটামল, কাশির জন্য নরসল নাকের ড্রপ আর নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানোই মূল চিকিৎসা। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Wednesday, January 20, 2016

লিভার সুস্থ রাখবে এই ৩টি ডিটক্স ওয়াটার

sasthobarta protidin
লিভার সুস্থ রাখবে এই ৩টি ডিটক্স ওয়াটার
জাঙ্ক ফুড, প্রসেসড ফুড বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই খাবারগুলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে থাকে। বিশেষ করে আমাদের লিভার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে এই খাবারগুলো খাওয়ার কারণে। দীর্ঘদিন যাবত এই খাবারগুলো খাওয়ার ফলে লিভার ড্যামেজ হওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে! তাই লিভার সুস্থ রাখতে পান করতে পারেন ডিটক্স। ডিটক্স লিভারের চর্বি, ময়লা দূর করে লিভারকে সুস্থ রাখে।  Dr. Ann Louise ১৯৮৮ সালে প্রথম লিভারের চর্বি দূর করার উপায়টি আবিষ্কার করেন। এই তিনটি ডিটক্স শরীরের বাড়তি চর্বি দূর করার সাথে সাথে লিভারকেও সুস্থ রাখে।
১। হলুদ ডিটক্স

১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
অল্প পরিমাণে আদা কুচি
১টি লেবুর রস
১/২ কাপ পানি
এই সবগুলো উপাদান মিশিয়ে ডিটক্স তৈরি করে নিন। এটি আপনার লিভার সুস্থ রাখে, পাকস্থলির বিষাক্ত পদার্থ দূর করে থাকে।
২। গ্রিন টি ডিটক্স

১টি কলা
১/২ কাপ সবুজ চা (ঠান্ডা)
সবুজ চা এবং কলা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে স্মুদি তৈরি করে নিন। সবুজ চায়ের ইজিসিজি দ্রুত লিভার পরিস্কার করে থাকে।
৩। মাল্টি কালার ডিটক্স

১টি মাঝারি আকৃতির শসা
১/২ লেবুর রস
১টি ক্যাপসিকাম
১টি আপেল
লেবুর রস, ক্যাপসিকাম, আপেল, শসা একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এই লিভার পরিষ্কার করে শরীরের বাড়তি চর্বি ঝরিয়ে দিবে।
এই ডিটক্সগুলো প্রতিদিন পান করুন। দ্রুত এবং ভাল ফল পেতে  দিনে ২-৩ থেকে গ্লাস ডিটক্স ওয়াটার পান করুন।
আমরা প্রতিনিয়ত খাদ্যাভ্যাস দ্বারা নিজেদের লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করছি। এই ডিটক্সগুলো লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। নিয়মিত পানে লিভার সংক্রান্ত রোগ থেকেও রক্ষা করব। শুধু তাই নয় এই ডিটক্স ওয়াটার আপনাকে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।

ডায়বেটিসের অজানা কারণ

sasthobarta protidin
ডায়বেটিসের অজানা কারণ
মোটা হওয়া আর খাবারে অনিয়মই নয়; আরও অনেক কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে।

স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, পারিবারিক ভাবে না থাকলেও অনিয়ম খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কফি পান কমানো: বিস্ময়কর হলেও সত্যি, কফি ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, কফি পান (ক্যাফেইনেটেড ও ডিক্যাফেইনেটেড) টাইপ টু ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমায়।

হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’য়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ছয় কাপ কফি পান করা ব্যক্তির ডায়বেটিসের ঝুঁকি, পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম।

কফিতে উপস্থিত কিছু বিশেষ উপাদান ইনসুলিন বাধাগ্রস্ত করা কমায়। পাশাপাশি গ্লুকোজ থেকে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে।

নিয়মিত রাত জাগা: দিনের পর দিন রাতে জেগে থাকা হতে পারে আপনার ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণ।

সম্প্রতি একটি কোরিয়ান গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি সারারাত জেগে একেবারে ভোরবেলায় ঘুমাতে যান, এমন কি সাত-আট ঘন্টা ঘুমানোর পরও তাদের ডায়বেটিসের ঝুঁকি নিয়মিত ঘুমাতে যাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষণার লেখক কোরিয়া ইউনিভার্সিটি আনসান হসপিটালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের চিকিৎসক নান হি কিম বলেন, “রাতজাগা ব্যক্তিদের টেলিভিশন ও মুঠোফোনের বিচ্ছুরিত কৃত্রিম আলোতে কাজ করার হার বেশি, যা কম ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ও রক্তের শর্করার পরিমাণে ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

নিম্নমানের ঘুম ও ঘুমের বিঘ্ন হওয়ার সঙ্গেও রাত জাগা সম্পর্কিত, যা বিপাক ক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে।

খাদ্যে প্রোবায়োটিকের অভাব: দেহের ভেতরে বেঁচে থাকা উপকারী জীবাণুগুলো প্রোবায়োটিক নামে পরিচিত।

আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এন্ডোক্রিনলজিস্ট বেতুল হাতিপগলু বলেন, “পেটের ভেতর ভালো জীবাণুর চেয়ে খারাপ জীবাণু বেশি থাকলে ডায়বেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।”

সুষ্ঠু হজম প্রক্রিয়ার জন্য প্রোবায়োটিক জরুরি। প্রোবায়োটিকের অভাবে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলাফল হতে পারে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস। দেহে প্রোবায়োটিক বৃদ্ধির জন্য দই, পনির ইত্যাদি খাবার কার্যকর।

প্লাস্টিকের পাত্রে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা: নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি অফ ল্যাঙ্গোন মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা দেখেছেন, প্লাস্টিকের পাত্র তৈরিতে দু’টি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় যা টিনএইজ ও শিশুদের মধ্যে ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী।

ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস ও উচ্চ রক্তচাপ তৈরিতে এসব রাসায়নিকের ভূমিকা আছে।

পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব: সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে কিন্তু সূর্যালোকের অভাবও ডায়বেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

নতুন একটি স্প্যানিশ গবেষণায় জানা গেছে, যেসব ব্যক্তির ভিটামিন ডি’র অভাব আছে, ওজন যা-ই হোক না কেনো, টাইপ-টু ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের বেশি। গবেষকরা মনে করেন, অগ্ন্যাশয়ের সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সূর্যালোক থেকে উৎপন্ন ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। অগ্ন্যাশয়, ইনসুলিন তৈরি করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ডা. হাতিপগলু ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন: স্যামন মাছ, ডি-সমৃদ্ধ দুধ, দানাদার খাদ্য গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।

ছুটির দিনে টিভি দেখে সময় কাটানো: ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গ’য়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টেলিভিশনের সামনে অতিবাহিত প্রতিটি ঘণ্টা চার শতাংশ করে ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

মেনশেলথ ডটকম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, আমেরিকার চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির কাইনেসিওলজির অধ্যাপক ডা. এরিক স্টার্নলিক্ট বলেন, “অত্যধিক বসে থাকা দেহযন্ত্রের ভেতরে চর্বির (ভিসেরাল ফ্যাট) বাড়ায়, যা কোমরের পরিধিও বাড়িয়ে দেয়।”

পেটের অতিরিক্ত চর্বি ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সকালের নাস্তা না খাওয়া: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ডায়বেটিসে সেন্টারের ডায়বেটিস বিষয়ক শিক্ষাবিদ এলেন ক্যালোগেরাস, এভরিডেহেলথ ডটকম-কে জানান, “সকালের নাস্তা না খাওয়ায় কেবল হিতে বিপরীত হবে তা নয়, এটি টাইপ টু ডায়বেটিস হওয়ার অনুকূল পরিবেশও সৃষ্টি করে।”

খাদ্যের অভাবে ইনসুলিনের মাত্রা ব্যাহত হয় এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিনতর হয়ে ওঠে।