Tuesday, November 8, 2016

গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগ

sasthobarta protidin
গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগ
গ্যাস্ট্রিক বা আলসার নামটির সঙ্গে পরিচিত নন এমন লোক খুঁজে বের করা হয়তো খুব কঠিন হবে। সাধারণত লোকজন গ্যাস্ট্রিক বা আলসার বলতে যা বুঝে থাকেন আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলি পেপটিক আলসার।

পেপটিক আলসার যে শুধু পাকস্থলীতেই হয়ে থাকে তা কিন্তু নয়; এটি পৌষ্টিকতন্ত্রের যে কোনো অংশেই হতে পারে। সাধারণত পৌষ্টিকতন্ত্রের যে যে অংশে পেপটিক আলসার দেখা যায় তা হচ্ছে-

* অন্ননালির নিচের প্রান্ত

* পাকস্থলী

* ডিওডেনাম বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ এবং

* পৌষ্টিকতন্ত্রের অপারেশনের পর যে অংশে জোড়া লাগানো হয় সে অংশে।

পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশ তথা আমাদের এ উপমহাদেশে এ রোগীর সংখ্যা বেশি। ধনীদের চেয়ে গরিব লোকদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। নারী-পুরুষ প্রায় সমানভাবে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

যেসব কারণে পেপটিক আলসার হতে পারে

বংশগত : কারো নিকটতম আত্মীয়স্বজন, যেমন- মা, বাবা, চাচা, মামা, খালা, ফুফু যদি এ রোগে ভুগে থাকেন তবে তাদের পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের রক্তের গ্র“প ‘ও’ তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি।

রোগ-জীবাণু : হেলিকোবেক্টারে পাইলোরি নামক এক ধরনের অণুজীব এ রোগের জন্য বহুলাংশে দায়ী।

ওষুধ : যেসব ওষুধ সেবনে পেপটিক আলসার হতে পারে তার মধ্যে ব্যথানাশক ওষুধ বা ঘংধরফং বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ধূমপান : ধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি।

এ ছাড়াও কারো পৌষ্টিকতন্ত্র থেকে যদি বেশি পরিমাণে অ্যাসিড ও প্রোটিন পরিপাককারী এক ধরনের এনজাইম বা পেপসিন নামে পরিচিত তা নিঃসৃত হতে থাকে এবং জন্মগতভাবেই পৌষ্টিকতন্ত্রের গঠনতন্ত্রের গঠনগত কাঠামো দুর্বল থাকে তাহলেও পেপটিক আলসার হতে পারে।

সাধারণত যে কথাটা প্রচলিত ভাজা-পোড়া কিংবা ঝালজাতীয় খাবার খেলে পেপটিক আলসার হয় এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে মেলেনি। যারা নিয়মিত আহার গ্রহণ করেন না কিংবা দীর্ঘ সময় উপোস থাকেন, তাদের মধ্যে পেপটিক আলসার দেখা দিতে পারে।

উপসর্গ

পেটব্যথা : সাধারণত পেটের উপরিভাগের মাঝখানে বক্ষ পিঞ্জরের ঠিক নিচে পেপটিক আলসারের ব্যথা অনুভব হয়। কখনও কখনও ব্যথাটা পেছনের দিকেও যেতে পারে।

ক্ষুধার্ত থাকলে ব্যথা : এ জাতীয় রোগী ক্ষুধার্ত হলেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে এবং খাবার খেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কমে যায়।

রাতে ব্যথা : অনেক সময় রাতের বেলা পেটে ব্যথার কারণে রোগী ঘুম থেকে জেগে ওঠে। কিছু খেলে ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

মাঝে মধ্যে ব্যথা : পেপটিক আলসারের ব্যথা সাধারণত সবসময় থাকে না। একাধারে ব্যথা কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকে। তারপর রোগী সম্পূণরূপে ভালো হয়ে যায়, এ অবস্থা কয়েক মাস থাকে তারপর আবার কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিক আগের মতো ব্যথা অনুভব হয় ।

ব্যথা কমে : পেপটিক আলসার ব্যথা সাধারণ দুধ, অ্যান্টাসিড, খাবার খেলে কিংবা বমি করলে অথবা ঢেঁকুর তুললে ব্যথা কমে।

এছাড়াও পেপটিক আলসারের মধ্যে বুক জ্বালা, অরুচি, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, কিংবা হঠাৎ রক্ত বমি অথবা পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে।

চিকিৎসা

শৃংখলা : পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীদের অবশ্যই ধূমপান বন্ধ করতে হবে। ব্যথানাশক ওষুধ অর্থাৎ এসপ্রিনজাতীয় ওষুধ সেবন থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে এবং নিয়মিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

ওষুধ : পেপটিক আলসারের রোগীরা সাধারণত অ্যান্টাসিড, রেনিটিডিন, ফেমোটিডিন, ওমিপ্রাজল, লেনসোপ্রাজল, পেনটোপ্রাজলজাতীয় ওষুধ সেবনে উপকৃত হন।

কারণভিত্তিক চিকিৎসা : জীবাণুজনিত কারণে যদি এ রোগ হয়ে থাকে তবে বিভিন্ন ওষুধের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়, যা ট্রিপল ড্রাগ থেরাপি নামে পরিচিত।

অপারেশন : পেপটিক আলসারের ক্ষেত্রে অপারেশন সাধারণত জরুরি নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবনের পরও যদি রোগী ভালো না হন, তবে কিছু খেলে যদি বমি হয়ে যায় অর্থাৎ পৌষ্টিকনালির কোনো অংশ যদি সরু হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অপারেশন করিয়ে রোগী উপকৃত হতে পারেন।

সময়মতো পেপটিক আলসারের চিকিৎসা না করলে রোগীর নিুলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-

* পাকস্থলী ফুটা হয়ে যেতে পারে

* রক্ত বমি হতে পারে

* কালো পায়খানা হতে পারে

* রক্তশূন্যতা হতে পারে

* ক্যান্সার হতে পারে (কদাচিৎ) এবং

* পৌষ্টিকনালির পথ সরু হয়ে যেতে পারে এবং রোগীর বারবার বমি হতে পারে।

কাজেই যারা দীর্ঘমেয়াদি পেপটিক আলসারে ভুগছেন তাদের উচিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। পেপটিক আলসারজনিত জটিলতা আগে থেকেই শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া। প্রয়োজনে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ধরে না রেখে সুস্থ-সুন্দর-স্বাভাবিক জীবনযাপন করা।

লেখক : বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

অলিভ ওয়েলের যত গুণ

sasthobarta protidin
অলিভ ওয়েলের যত গুণ
ভোজ্য তেল হিসেবে অনেক ধরনের তেল ব্যবহৃত হয়। তবে সারা বিশ্বে যত রকম ভোজ্য তেল রয়েছে তার মধ্যে স্বাস্থ্যকর তালিকার দিক থেকে শীর্ষস্থান দখল করে আছে অলিভ ওয়েল। সুস্থ ও ফিট দেহের জন্য অলিভ ওয়েলের চাহিদা অত্যন্ত ব্যাপক। অনেক দেশে অলিভ ওয়েল সাধারণত কেবল সালাদের তেল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আবার অনেক দেশের রান্নার জরুরি উপকরণ এটি। তবে কেবল রান্নাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে এই অলিভ ওয়েলকে আরও নানা প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেই, সালাদ বা রান্নার কাজ ছাড়াও অলিভ ওয়েলের কিছু অনন্য ব্যবহারের কথা-

১. মাঝে মাঝে দেখা যায় বাড়ির কোন দরজা খুলতে বা বন্ধ করতে গেলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়ার করে। সে ক্ষেত্রে সংযোগ কব্জাগুলোতে কিছু অলিভ ওয়েল দিয়ে দিন। আর শব্দ করবে না।

২. ওটমিল, সামান্য ক্রিমের সঙ্গে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে তা মুখ পরিষ্কারের স্কার্ব হিসাবে ব্যবহার করুন।

৩. লোহার যন্ত্রপাতি বা গ্রিলের মরিচা প্রতিরোধ করতে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন।

৪. বাচ্চাদের ম্যাসাজের জন্য অলিভ ওয়েলকে সেরা বলে ধরা হয়।

৫. বাড়িতে শেভিং ক্রিম না থাকলে মসৃণ শেভের জন্য অলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

৬. এক কাপ অলিভ ওয়েলের সঙ্গে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিন। আসবাবপত্র পরিষ্কারের কাজে একে ব্যবহার করুন।

৭. হাতের কালশিটে ভাব দূর করতে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন।

৮. ওয়াক্সিংয়ের পর হাত ও পায়ের চিটচিটে ভাব দূর করতে অলিভ ওয়েল মাখুন।

৯. চুলকে স্থির করে রাখতে চাইলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন চুলে। মনে হবে যেন জেল দিয়েছেন।

১০. মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোমের সঙ্গে সামান্য অলিভ ওয়েল মিশিয়ে একটি কৌটায় রেখে দিন। এটি পরে লিপজেলের কাজ করবে।

১১. চুলের কন্ডিশনার হিসাবে অলিভ ওয়েল দারুণ কাজে দেয়। চুলে মেখে একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন।

১২. ব্রাশগুলোকে চকচকে রাখতে এগুলো ধুয়ে অলিভ ওয়েলে পলিশ করুন।

১৩. মেকআপ মুছতে রিমুভার হিসেবে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

১৪. দাঁতের যত্নেও দারুণ এক উপাদান অলিভ ওয়েল।

১৫. শিশুদের নিতম্ব থেকে র‌্যাশ দূর করতে সামান্য অলিভ ওয়েল মাখিয়ে দিন।

ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে জানুন

sasthobarta protidin
ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে জানুন
ফুলকপি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজিগুলোর একটি যা ক্রুসিফেরি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এতে পানির পরিমাণ থাকে ৮৫% এবং খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে।  কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্য ফাইটোকেমিক্যাল ও থাকে। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এই বহুমুখী গুণ সম্পন্ন সবজিটি কাঁচা, সেদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়। চলুন জেনে নিই ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে।

১। হৃদ-স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে

ফুলকপিতে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন থাকে যা ব্লাড প্রেশারের উন্নতিতে সাহায্য করে। গবেষণা মতে সালফোরাফেন ডিএনএ এর মিথাইলেশনের সাথে সম্পর্কিত যা কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং জিনের সঠিক প্রকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, বিশেষ করে ধমনীর ভেতরের প্রাচীরের। সালফোরাফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। অন্য এক গবেষণায় জানা যায় যে, ফুলকপির সাথে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ে ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।  

২। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়

ফুলকপিতে আরেকটি উপকারী যৌগ কোলাইন থাকে। কোলাইন একটি বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের উন্নয়নে সাহায্য করে। প্রেগনেন্সির সময়ে ফুলকপি গ্রহণ করলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। গবেষণায় নির্দেশ করা হয়েছে যে, জ্ঞানীয় কাজের, শিক্ষার এবং স্মৃতির উন্নয়নে সাহায্য করে কোলাইন।  

৩। শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে

ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীর পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে গ্লুকোসাইনোলেটস থাকে যা এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং ডিটক্স হতে সাহায্য করে।

৪। প্রদাহ কমায়

ফুলকপিতে ইন্ডোল ৩ কার্বিনোল বা I3C থাকে যা একটি অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি শক্তিশালী ইনফ্লামেটরি রিঅ্যাকশন প্রতিরোধ করে।

৫। হজমের উন্নতি ঘটায়

যেহেতু ফুলকপি ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেহেতু এটি হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ডস হেলদিয়েস্ট ফুডস এর মতে, ফুলকপি পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে এবং পাকস্থলীর প্রাচীরে এর আবদ্ধ হওয়াকে প্রতিহত করে।

৬। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

ফুলকপিতে ভিটামিন সি, বিটাক্যারোটিন, কায়েম্ফেরোল, কোয়ারসেটিন, রুটিন, সিনামিক এসিড সহ আরো অনেক উপাদান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করে এবং টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি হওয়া প্রতিহত করে।

Sunday, October 30, 2016

মৌসুমি খুসখুসে কাশি দূর করুন ঘরোয়া কিছু উপায়ে

sasthobarta protidin
মৌসুমি খুসখুসে কাশি দূর করুন ঘরোয়া কিছু উপায়ে
ভোরের বাতাস শীত আগমনের আভাস দিচ্ছে। শীত শুরুর এই সময়টাতে জ্বর, ঠান্ডায় কম বেশি সবাই আক্রান্ত হয়। জ্বর ভাল হয়ে গেলেও কাশি সহজে ভাল হতে চায় না। এই কষ্টদায়ক খুসখুসে কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আছে ঘরোয়া কিছু উপায়। ওষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব খুসখুসে কাশি। খুসখুসে কাশি দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায় নিয়ে আজকের এই ফিচার।

১। হলুদ

আধা কাপ পানিতে এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো, এক চা চামচ গোল মরিচের গুঁড়ো দিয়ে জ্বাল দিন। এতে একটি লবঙ্গ দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে এক টেবিল চামচ মধু মেশান। এটি প্রতিদিন পান করুন। এছাড়া এক কাপ পানিতে এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং এক চা চামচ মৌরি দিয়ে হারবাল চা তৈরি করুন। এটি দিনে তিনবার পান করুন।

২। মধু

শুষ্ক কাশি প্রতিকারে মধু বেশ কার্যকর। এক টেবিল চামচ বিশুদ্ধ মধু প্রতিদিন ১ থেকে ৩ বার গ্রহণ করুন। বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক টেবিল চামচ মধু খেয়ে নিন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১ চা চামচ থেকে ১ টেবিল চামচ হতে পারে। মধুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান কাশি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৩। রসুন

পাঁচটি রসুনের কোয়া কুচি করে এক চা চামচ ঘিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। কুসুম গরম থাকা অবস্থায় এটি খেয়ে ফেলুন। রসুনের অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং এক্সপেকটোরেন্ট উপাদান কাশি উপশম করে থাকে। University of Maryland Medical Center cites এর মতে রসুন অব্যশই কাশি উপশম করে থাকে।

৪। পেঁয়াজ

খুস খুস কাশি দূর করতে পেঁয়াজ বেশ কার্যকর। আধা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এটি দিনে দুইবার পান করুন। পেঁয়াজের ঝাঁজ গলার খুসখুসে কাশি কমাতে সাহায্য করবে।

৫। আদা চা

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক কাপ আদা চা খেয়ে নিতে পারেন। আদার অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান গলার ভিতরে অস্বস্তিকর অনুভূতি দূর করে থাকে। এক কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে জ্বাল দিন। এটি দিনে তিন থেকে চার বার পান করুন। দেখবেন শুষ্ক কাশি অনেক কমে গেছে। আদা চায়ের পরিবর্তে এটি পান করতে পারেন। এছাড়া কিছু আদা কুচি এক গ্লাস পানিতে জ্বাল দিন। এটি পান করুন।

Thursday, October 27, 2016

যে ৭টি স্বাস্থ্যকর ব্রেক ফাস্ট ওজন কমাতে সাহায্য করবে

sasthobarta protidin
যে ৭টি স্বাস্থ্যকর ব্রেক ফাস্ট ওজন কমাতে সাহায্য করবে
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই সকালের নাস্তা না খেয়ে থাকেন। অথচ সকালের নাস্তা আপনাকে সারাদিনের কাজের শক্তি প্রদান করে। এমন কিছু খাবার সকালের নাস্তায় রাখা উচিত যা ওজন কমাতে সাহায্য করবে। সকালের এমন কিছু মজাদার কিন্তু স্বাস্থ্যকর নাস্তার খবর নিয়ে আজকের এই ফিচার।

১। ভাজা সবজি এবং ডিম

সকালের নাস্তায় একটি ডিম ভাজি এবং এক বাটি সবজি ভাজি খেতে পারেন। এটি আপনার পেট ভরিয়ে দেবে এবং সারাদিনের কাজের শক্তি প্রদান করবে। এছাড়া সবজির সাথে একটি ডিম ভেঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। সম্ভব হলে সবজি অলিভ অয়েল দিয়ে ভেজে নিতে পারেন।

২। স্বাস্থ্যকর ওটস

ওটস খাবারটি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন না। ওটসের সাথে দারুচিনির গুঁড়ো, বাদাম দুধ, টকদই, কলা, আনারস কুচি, কাঠাবাদাম কুচি সব একসাথে মিশিয়ে মাইক্রোওয়েভে বেক করে নিতে পারেন। বোরিং ওটসকে মজাদার করে তুলবে বাদাম দুধ।

৩। স্ট্রবেরি কলার স্মুদি

নাস্তার সাথে অনেকেই ফলের রস খেতে পছন্দ করেন। ফলের রসের পরিবর্তে কলা, কাঠবাদাম কুচি, টকদই দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন মজাদার স্মুদি। এতে  ৩৫০ ক্যালরি এবং ১৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪। ফ্রুট সালাদ

সালাদ খেতে পছন্দ করেন? তাহলে সকালের নাস্তায় এই ফ্রুট সালাদটি খেতে পারেন।  গ্রেপফ্রুট, কমলা, ব্লুবেরি এবং একটি লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন ফ্রুট সালাদ। আপনি আপনার পছন্দের ফল দিয়ে তৈরি করতে পারেন, তবে টক জাতীয় ফল ভাল হয়।

৫। কটেজ চিজ

ফ্যাটের ভয়ে অনেকে পনির খেতে চান না। তারা কটেজ চিজ খেতে পারেন। চার আউন্স কটেজ চিজে ১৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ৮১ ক্যালরি রয়েছে। ফল অথবা সবজির সাথে কিছু পরিমাণ কটেজ চিজ মিশিয়ে নিতে পারেন।

৬। ডিম এবং সবজি

একটি ডিম অলিভ অয়েলে ভাজি করে নিন। এর সাথে দুই কাপ পালং শাক, এক কাপ মাশরুম অল্প তেলে ভাজি করুন। এটি সকালের নাস্তায় খেতে পারেন। এতে ২৩০ ক্যালরি রয়েছে।

৭। কলার প্যানকেক

মজাদার এই খাবারটি সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন। কলা, ডিম, ময়দার সাথে আমন্ড বাটার মেশাতে পারেন। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

যে ৫ টি কারণে নবজাতক ও ছোট শিশুকে বালিশ দেয়া ঠিক নয়

ranna banna o beauty tips
যে ৫ টি কারণে নবজাতক ও ছোট শিশুকে বালিশ দেয়া ঠিক নয়
বড়দের জন্য বালিশ প্রয়োজনীয় ও আরামদায়ক ঘুমের অনুষঙ্গ হলেও নবজাতক ও শিশুদের জন্য বালিশ প্রয়োজনীয় নয়। আসলে শিশুর জন্মের প্রথম দুই বছরে শিশুকে বালিশ থেকে দূরে রাখারই পরামর্শ দেয়া হয়। ছোট শিশুদের বালিশে ঘুম পারালে দমবন্ধ হওয়ার মত মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও আরো কিছু সমস্যা হতে পারে যার কারণে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ছোট শিশুদের বালিশ না দেয়ার কারণগুলো জেনে নিই চলুন।  

১। দমবন্ধ হওয়া

যদি মনে করেন যে, বালিশে ঘুমালেই শিশুর ভালো ঘুম হবে তাহলে এটা আপনার ভুল ধারণা। কারণ আপনার শিশুর কোমল মাথাটি নরম বালিশের ভেতরে ডুবে দমবন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শিশুর মাথা এক পাশ থেকে আরেক পাশে নাড়ানোর সময় শিশুর নরম ও ছোট নাকের ছিদ্র দুটো বালিশে চাপা পড়ে বন্ধ হয়ে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

২। SIDS হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

ছোট শিশুকে বালিশ দিলে সাফোকেশন হওয়া ছাড়াও সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (SIDS) হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় বহুলাংশে। স্পঞ্জ বা থারমোকুল বালিশ যদি ব্যবহার করা হয় তাহলে তার কারণে  শিশুর শ্বাস কষ্টের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও নাল বালিশ ব্যবহার করা হলে শিশুর মাথা নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়।

৩। অতিমাত্রায় তাপ সৃষ্টি করতে পারে

শিশুদের শৌখিন বালিশগুলোতে আকর্ষণীয় কভার লাগানো থাকে। যার বেশীর ভাগই সুতির কাপড়ের না হয়ে পলিয়েস্টার বা অন্য ফেব্রিকের হয়ে থাকে। যা মাথার নীচের দিকের তাপ বৃদ্ধি করে থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রাও উঠানামা করে। বালিশের কভারের কারণে অত্যধিক ঘাম বা তাপ উৎপন্ন হলে তা হাইপারথারমিয়া নামক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, যা শিশুর জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

৪। ঘাড় মচকানোর সমস্যা হতে পারে

শিশুদের বালিশগুলো চ্যাপ্টা ও ফাঁপা হয়। দীর্ঘ সময় এই ধরণের বালিশে ঘুমালে শিশুর ঘাড় মচকানোর সমস্যা হতে পারে।

৫। ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম

নরম বালিশে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে ক্রমাগত চাপের ফলে শিশুর ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। SIDS এর ঝুঁকি কমানোর জন্য শিশুকে চিত করে শোয়ানো ভালো। তবে নরম বালিশে দীর্ঘক্ষণ ঘুলালে শিশুর মাথার আকারের বিকৃতি সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুর নিরাপদ ঘুমের জন্য করণীয় :

-   শিশুকে সব সময় চিত করে শোয়ান, উপুড় করে নয়।

-   শিশুর ২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বালিশে শোয়াবেন না।

-   শিশু যদি ২ ঘন্টার বেশি একই অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে তাহলে তার পাশ পরিবর্তন করে দিন।

-   আপনার শিশুকে যদি আলাদা বিছানায় শোয়ান তাহলে তার বিছানাটি আপনার বিছানার কাছে রাখুন এবং ইলেকট্রনিক গেজেট থেকে দূরে রাখুন।      

Wednesday, October 26, 2016

চুইংগামেরও আছে স্বাস্থ্য উপকারিতা

চুইংগামেরও আছে স্বাস্থ্য উপকারিতা
ছোট বড় সবারই পছন্দের খাবার হচ্ছে চুইংগাম। চুইংগাম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই কথাটি পুরোপুরি সত্যি নয়। স্নায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন চুইংগাম আসলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার জন্য চিনিমুক্ত চুইংগাম খেতে হবে। চুইংগাম স্বাস্থ্যের জন্য কেন উপকারী তার কারণ জেনে নিই চলুন।

১। মনোযোগের উন্নতি ঘটাতে পারে

২০০৯ সালে নিউট্রিশনাল নিউরোসায়েন্স নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, চুইংগাম চিবালে সতর্কতা বৃদ্ধি পায়। আপনি যদি কাজের সময় অলসতা অনুভব করেন তাহলে চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবান, এতে আপনার কাজের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

২। স্ট্রেস কমায়

চুইংগাম স্ট্রেস কমতেও সাহায্য করে। গবেষকেরা চুইংগাম ও মেজাজের উন্নতির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। নার্ভাস হেবিট যেমন- নখ কামড়ানো বা পা নাড়ানোর মত অভ্যাসগুলোকে কমতে সাহায্য করে চুইংগাম যা সাধারণত হয়ে থাকে স্ট্রেসের কারণে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের নিঃসরণ কমতে সাহায্য করে চুইংগাম।  

৩। খাদ্যের আসক্তি কমায়

যদি আপনি ওজন কমানোর চেষ্টা করেন এবং জাংকফুড খাওয়া কমাতে চান, তাহলে চিনিমুক্ত চুইংগাম আপনাকে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চুইংগাম চিবানোর ফলে স্ন্যাক্স খাওয়ার ঝোঁক কমে। ফলে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়।

৪। একাগ্রতার উন্নতি হয়

মনোযোগের সমস্যার বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করেন। আপনার যদি কোন প্রোজেক্ট বা এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করতে সমস্যা হয় তাহলে চুইংগাম আপনাকে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চুইংগাম জ্ঞানীয় কাজ ও একাগ্রতার উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।

৫। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

চুইংগাম ক্যাভেটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমায়। এছাড়াও চিনিমুক্ত চুইংগাম দাঁত ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি কমায় প্রায় ৪০% পর্যন্ত।

৬। বিমানে কান ব্যথা কমতে সাহায্য করে

বিমান উঠা এবং নামার সময় অনেকেরই কানে ব্যথা হয় বায়ুর চাপের কারণে। বিভিন্ন ভাবে কানের এই সমস্যাটি দূর করা যায় যেমন- হাই তোলা বা নাকে চিমটি কাটা ইত্যাদি। আরেকটি সহজ উপায় হচ্ছে চুইংগাম চিবানো। চুইংগাম লালা উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। এর ফলে আপনি যখন ঢোক গিলবেন তখন কানের চাপ সমান হতে সাহায্য করবে।   

Tuesday, October 25, 2016

যে ৭টি খাবার রক্ত পরিষ্কার করে থাকে

Clean blood
যে ৭টি খাবার রক্ত পরিষ্কার করে থাকে
দেহের অন্যতম উপাদান হল রক্ত। প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে রক্ত দূষিত হচ্ছে। রক্ত দূষিত হওয়ার জন্য খাবার, বায়ু, পরিবেশ ইত্যাদি মূলত দায়ী । রক্ত কোন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে তা সম্পূর্ণ শরীর ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  তাই রক্ত সুস্থ রাখা প্রয়োজন। রক্ত থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে কিছু খাবার। এমন কিছু খাবারের সাথে আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব।  

১। লেবু

লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, প্যাকটিন, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে যা দূষিত রক্ত দূর করতে সাহায্য করে। সকালে নাস্তা খাওয়ার আগে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি খালি পেটে পান করুন। এটি পেটের মেদ কমানোর সাথে সাথে রক্ত পরিষ্কার করবে।

২। রসুন

আভ্যন্তরীণ প্যারাসাইট এবং ভাইরাস আপনার শরীর থেকে, বিশেষত রক্ত এবং অন্ত্র থেকে দূর করতে পারদর্শী রসূন। এর অ্যান্টি ক্যান্সার এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং তা সংক্রামণ প্রতিরোধ করে থাকে।

৩। ব্রকলি

রক্ত থেকে ক্ষতিকর টক্সিন পর্দাথ দূর করতে ব্রকলি বেশ পরিচিত একটি খাবার। এতে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন কে, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস রয়েছে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ব্রকলি রাখার চেষ্টা করুন।

৪। অ্যাভোকাডো

নানা পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে দিতে অ্যাভোকাডোর ভূমিকা রয়েছে।  ধমনীতে অনেক সময় ব্লক তৈরি হয় তা দূর করে দিতেও বেশ কার্যকর এই ফল। এছাড়া এতে গ্লুটাথিয়ন নামক উপাদান রয়েছে যা লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

৫। লেটুস পাতা

সালাদের পরিচিত উপাদান লেটুস। এটি দেহে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। সালাদ কিংবা স্মুদিতে লেটুস পাতা যোগ করুন।

৬। বিট

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং নানা পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ এই সবজিটি রোগ জীবাণু থেকে শরীরকে  রক্ষা করে থাকে। এবং রক্ত থেকে টক্সিন দূর করে লিভারকে সুস্থ রাখে। শুধু তাই নয় বিট রক্ত স্বল্পতাও দূর করে থাকে।

৭। গ্রেপফ্রুট

স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য গ্রেপফ্রুট অনেক উপকারী। এতে  কপার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, প্যাকটিন, ফাইবার এবং ভিটামিন বি রয়েছে। এর প্যাকটিন উপাদান দেহ থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেবে। ভিটামিন সি রক্তে কোলাজেন উৎপাদন করে।

Wednesday, July 27, 2016

দাম্পত্য জীবন ঠিক রাখতে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম

sasthobarta protidin
দাম্পত্য জীবন ঠিক রাখতে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম

উপহার কিংবা রোম্যান্টিক নৈশভোজ নয়। বিবাহিত জীবনে সুখের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে পর্যাপ্ত ঘুমের মধ্যে! এমনটাই দাবি ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্বের গবেষকদের। তারা বলছেন, সঙ্গীর মেজাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের মস্তিষ্কের সামনের অংশ। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম ওই অংশটিকে তরতাজা করে তুলতে সাহায্য করে। ফলে ঝগড়া এড়িয়ে চলা যায়। ৬ হাজার ৮০০ দম্পতির মধ্যে এক পরীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, পেশা এবং অন্যান্য সামাজিক অভ্যাসের কারণে সারা বিশ্বে মানুষের গড় ঘুমের সময় গত ১০ বছরে ২ ঘণ্টা কমে গেছে। সেই কারণেই নাকি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা গত ১০ বছরে বেড়েছে ৮ শতাংশ!  আমেরিকার ক্যানসাসের এক দম্পতির উদাহরণ দিয়েছেন গবেষকরা। দৈনন্দিন অশান্তির কারণে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওই দম্পতি। মনোবিদরা তাদের দিনে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেন। তার সঙ্গে একটি ডায়রিতে সম্পর্কের কতটা উন্নতি হচ্ছে সেটা প্রতিদিন লেখার পরামর্শ দেন। দুই মাস পরেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ওই দম্পতি। 

নখের বিষয়ে যে কথাগুলো আপনি জানেন না

sasthobarta protidin
নখের বিষয়ে যে কথাগুলো আপনি জানেন না
বেশিরভাগ মানুষই নখের বিষয়ে খুব বেশি সচেতন না। নখ ভেঙ্গে গেলে বা নখে ব্যথা পেলেই নখের প্রতি খেয়াল করা হয়। আমরা যা মনে করি তার চেয়ে আরো অনেক জটিল আমাদের নখ। নিউ ইয়র্ক সিটির সানি ডাউনস্ট্যাট মেডিক্যাল সেন্টারের ডারমাটোলজি বিভাগের  অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর এবং আর্ট অফ ডারমাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা জেসিকা ক্রান্ট বলেন, “নখের শক্ত অংশ বা নেইল প্লেট মহাসাগরীয় তরঙ্গের মত ম্যাট্রিক্স বা নখের মূল থেকে বেড়িয়ে আসে”। তিনি আরো বলেন, “নখের সাদা অংশ থাকে নখের গোড়ার দিকে যাকে লুনুলা বা ছোট চাঁদ বলে। বৃদ্ধাঙ্গুলিতে এটি স্পষ্ট বোঝা যায় এবং এটি ম্যাট্রিক্সের দৃশ্যমান শেষ অংশ”। চলুন, নখ সম্পর্কে এরকম অজানা কিছু তথ্য জেনে নিই।

১। হাতের নখ প্রতিমাসে গড়ে ৩.৫ মিলিমিটার করে বাড়ে

প্রতিমাসে এক ইঞ্চির দশ ভাগের এক ভাগ করে বৃদ্ধি পায় হাতের নখ এবং এই বৃদ্ধি দ্রুত হয় সক্রিয় বা প্রভাবশালী হাতটিতে। অন্যদিকে পায়ের নখ গড়ে ১.৬ মিলিমিটার করে বৃদ্ধি পায়।

২। নখের সাদা দাগ ক্যালসিয়ামের ঘাটতিকে নির্দেশ করেনা

‘নখের সাদা দাগ খুবই সাধারণ ও অক্ষতিকর একটি বিষয় যা কোন নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতিকে নির্দেশ করেনা”- ক্রান্ট বলেন। নখের সাদা দাগ ক্যালসিয়ামের ঘাটতিকে নির্দেশ করে - এটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা।

৩। নখ চুলের মত একই উপাদানে গঠিত

ক্যারাটিন নামক উপাদান দিয়ে নখ ও চুল গঠিত। তাই চুলের জন্য উপকারী খাবার নখের জন্য ও উপকারী। “ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও সবজি, প্রোটিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যকর নখ ও চুলের প্রধান চাবিকাঠি” বলেন জেসিকা ক্রান্ট। ক্যারাটিন এক ধরণের প্রোটিন।নখ, চুল ও ত্বকের আর্দ্রতার জন্য এবং এদের শক্তিশালী করার জন্য স্বাস্থ্যকর তেল ও ফ্যাট প্রয়োজন।  

৪। ম্যামালদের থেকে প্রাইমেটকে আলাদা করে নখ

যেখানে বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর নখ থাবার জন্য উপযোগী হয়। সেখানে প্রাইমেট বর্গের প্রাণীদের বিশেষ করে মানুষের নখ তাদের থেকে আলাদা ধরণের হয়।

৫। নখ কামড়ানোকে অনাইকোফ্যাজিয়া বলে

WebMD এর মতে, এটি সবচেয়ে সাধারণ “নার্ভাস হেবিট”। মোটামুটিভাবে ১০-১৮ বছরের শিশু-কিশোরদের অর্ধেকের মধ্যে নখ কামড়ানোর অভ্যাসটি দেখা যায় বেশি। বেশিরভাগ মানুষ ৩০   বছর বয়সের মধ্যেই এই অভ্যাসটি নিজে নিজেই ত্যাগ করে।

৬। নখের মধ্যে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিৎ

আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন নখের শক্ত অংশেও জীবন্ত টিস্যু থাকে এবং এর মধ্য দিয়ে অক্সিজেন প্রবেশ করে নখের মূলে যায়। নেইল পলিশ নখকে কিছুটা শুষ্ক করে দেয়। তাই ম্যানিকিউর করে নখকে সতেজ রাখুন।

৭। নখ সমস্ত শরীরের জানালা

ক্রান্ট বলেন, “একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আপনার নখ দেখেই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে অনেক কিছু বুঝতে পারেন। নখের গোড়ায় নীলাভ ভাব দেখা গেলে বোঝা যায় আপনার ফুসফুসের রোগ আছে, নখের গোড়ার চামড়ায় কৈশিকনালী দেখা গেলে অটোইমিউন ডিজিজ আছে বোঝা যায়, নখের বর্ণ হলুদ, সাদা বা ডোরা দেখা দিলে মারাত্মক ধরণের কোন রোগ আছে বোঝা যায়”। তাই নখের কোন অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

৮। কিউটিক্যালেরও প্রয়োজন আছে   

নখের গোড়ার কিউটিক্যাল নখকে আর্দ্র রাখতে এবং জীবাণুর সংক্রমণ থেকে নখকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।তাই ম্যানিকিউর করার সময় এটি কেটে ফেলা উচিৎ নয়।

আমেরিকান একাডেমী অফ ডারমাটোলজির মতে, নখের বৃদ্ধি প্রভাবিত হয় ঋতুর পরিবর্তনের কারণে, বয়স, জিন এবং অন্যান্য আরো কিছু কারণে। শীতের চেয়ে গ্রীষ্মকালে নখ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ছেলেদের নখ মেয়েদের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রেগনেন্সির সময় এর ব্যতিক্রম হতে পারে। চর্মরোগের সমস্যার প্রায় ১০% নখের সাথে সম্পর্কিত। স্ট্রেসের কারণে নখের স্বাস্থ্য প্রভাবিত হয়। নখের শক্তভাব জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে।  

Monday, July 25, 2016

ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সুগন্ধি ব্যবহারের কৌশল

sasthobarta protidin
ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সুগন্ধি ব্যবহারের কৌশল
সুগন্ধি ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ। সুগন্ধি ব্যবহারের আদব-কায়দা ভালোভাবে জানা থাকলে ব্যক্তিত্বও ফুটে উঠবে অসাধারণভাবে। অপরদিকে সুগন্ধির ভুল ব্যবহারে অন্যের সামনে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। তাই আগেই জেনে নিন, সাজ পোশাক এবং আবহাওয়া অনুযায়ী আপনার উপযুক্ত সুগন্ধি সম্পর্কে।

পছন্দকে প্রাধান্য দিন

সুগন্ধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দকে বেশি প্রাধান্য দিন। যেকোনো সময় ও অভিজ্ঞতায় আপনি আসলে কেমন এবং কী ভালবাসেন, এটা জানা থাকলে মনে পূর্ণতা আসবে। সুগন্ধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। তাই নিজের পছন্দের গন্ধকে প্রধান্য দিয়ে সুগন্ধির ভালো কোনো ব্র্যান্ডকে বেছে নিন।

পরীক্ষা করুন

সুগন্ধির সর্বশেষ পর্যায় হল দৈহিক রসায়ন। অন্য কারো দেহে যে গন্ধ ভালো লাগে, আপনার দেহে তা নাও লাগতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের দেহ আলাদা রসায়নে তৈরি। আর ঠিক সে কারণেই বিশেষ একটি সুগন্ধি অন্যের দেহে যেভাবে কাজ করে, আপনার দেহে তা সেভাবে করবে না। কাজেই সুগন্ধি কেনার আগে নিজের ত্বকের ওপর পরীক্ষা করে নিতে হবে। সুগন্ধি লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করলেই ফলাফল টের পাবেন। এরপর যে সুগন্ধি ভালো সৌরভ ছড়াবে সেটিই আপনার জন্য বাছাই করুন।

সুগন্ধি কাপড়ে নয়

আমরা সাধারণত জামা-কাপড়ের ওপরেই সুগন্ধি লাগিয়ে নিই। কাপড়ে লাগালে একটু পরই সে গন্ধ মিলিয়ে যায়। হাতের কবজি, কানের লতি ও ঘাড়েও একটু স্প্রে করে নিতে পারেন। তাহলে গন্ধটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় ।

প্রলেপ দিন

দিনভর সুগন্ধ ধরে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হল প্রলেপন। সেক্ষেত্রে গোসলে সুগন্ধি বডি-ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। বডি-লোশান অথবা বডি-অয়েল দিলে সৌরভ আরেকটু বাড়বে। আর্দ্রতা ধরে রাখতেও বেশ কার্যকর। এরপর আপনার পালস-পয়েন্টগুলোতেও একটু বডি-অয়েল মাখিয়ে নিয়ে ফিনিশিং টাচ হিসেবে সুগন্ধি লাগিয়ে নিন। ব্যস, সারাদিনের জন্য আপনি সতেজ আর সুরভিত!

বদলে নিন

আপনি হয়তো সবসময় একই ধরণের সুগন্ধি ব্যবহারে অভ্যস্ত। তবে হালকা গন্ধের সুগন্ধিগুলোকে দিনের বেলায় এবং কড়া ও ঝাঁঝালো সুগন্ধি রাতে ব্যবহার করা উচিৎ। আবার ঋতু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথেও সুগন্ধি বদলে নিতে হবে। কারণ আপনার সুগন্ধি হল আত্ম-প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্মরণীয় মাধ্যম। মুড বুঝে সুগন্ধি ব্যবহার করলে সেটি থাকবে মানানসই।

ক্ষতিকারক ৫ হেপাটাইটিস ভাইরাস

হেপাটাইটিস সম্পর্কে কমবেশি সবাই জানি। লিভারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এ রোগটি সাধারণত ভাইরাসজনিত কারণে হয়।

ল্যাটিন ভাষায় লিভারকে বলা হয় হেপাট। লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি হলে তাকে বলা হয় হেপাটাইটিস। লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি হলে বেশকিছু শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়। ভাইরাস ছাড়াও বিভিন্ন কারণে- ব্যাকটেরিয়া, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও গলব্লাডারের অসুস্থতা থেকে হেপাটাইটিস হতে পারে। 

পাঁচ হেপাটাইটিস ভাইরাস

হেপাটাইটিস ভাইরাসের পাঁচটি ভাগ রয়েছে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই।

হেপাটাইটিস এ - খাদ্য ও পানীয় যদি কোনোভাবে মলমূত্রের সংস্পর্শে আসে, তবে হেপাটাইটিস এ ছড়ায়। সাধারণত শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। 

হেপাটাইটিস ই -  এ এর মতো প্রায় একই কারণেই ছড়ায়। তবে এ ভাইরাসের ক্ষতি করার ক্ষমতা কম। প্রেগন্যান্সিতে ভাইরাসটি ক্ষতিকারক। 
    
হেপাটাইটিস বি - যেকোনো বয়সেই হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে এ ভাইরাস থাকলে তা শিশুর শরীরেও প্রবেশ করে। ফলে জন্মের পর শিশু বিভিন্ন রোগে ভুগতে পারে। এ ভাইরাসের জিন লিভারের কোষের জিনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে লিভারের কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে।

হেপাটাইটিস সি – এর সাধারণত কোনো উপসর্গ চোখে পড়ে না। তবে দীর্ঘদিন অবস্থানের পর এটি সিরোসিস তৈরি করে। যার ফলে লিভার ক্যানসার, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। 

হেপাটাইটস ডি – হেপাটাইটিস ডি এক কথায় বি ভাইরাসের সহযোগী। যা বি ভাইরাসের মতো সমান ক্ষতিকর। 

সাবধানতা
হেপাটাইটিস নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই। হালকা সহজপাচ্য খাবার খাওয়া, হালকা ব্যায়াম করা, অ্যালকোহল ও মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা প্রাথমিক পরামর্শ। 

হেপাটাইটিসি এ তে ব্যক্তিগত সাবধানত‍া জরুরি। বিশুদ্ধ খাবার ও পানীয় জলের সুব্যবস্থা রাখতে হবে। হেপাটাইটিস বি, সি, বা ডি হলে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ভাইরাস লিভারে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়। যা পরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। হেপাটাইটিস বি দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। যার ফলে লিভার ক্যানসার ও সিরোসিস হতে পারে। 

সবরকম হেপাটাইটিস ভাইরাসে প্রথম অবস্থায় রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম। দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, চোখ হলুদ হওয়া, পেটে ব্যথা, জ্বর ইত্যাদি দেখা দেয়। হেপাটাইটিস বি এর ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি লক্ষণ থাকে। বিভিন্ন সন্ধিতে ব্যথা ও ত্বকে চাক চাক দেখা দেওয়া। হেপাটাইটিস বি এড়াতে বিশুদ্ধ পানি পান ও হাত পায়ের পরিচ্ছন্নতা জরুরি। 

স্বামী-স্ত্রীর যেকোনো একজনের এ রোগ থাকলে অন্যজনকে অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। বাড়িতে কারও হেপাটাইটিস বি পজিটিভ থাকলে তার ব্রাশ, নেইলকাটার ও রেজার আলাদা রাখতে হবে। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন ও প্রয়োজনীয় টীকা নিন।

Sunday, July 24, 2016

মজাদার স্মুদিতে কমিয়ে ফেলুন পেটের মেদ

sasthobarta protidin
মজাদার স্মুদিতে কমিয়ে ফেলুন পেটের মেদ
পেটের মেদ নিয়ে আমাদের আক্ষেপের শেষ নেই। অনেকের সারা শরীরে মেদ না থাকলেও পেটে মেদ থাকে। সাধারণত একটানা বসে কাজ, কায়িক শ্রম কম করা বিভিন্ন কারণে পেটে চর্বি জমে। ডায়েট করে পেটের মেদ কমানো সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় ব্যায়ামের। কিন্তু ব্যস্ত এই জীবনে ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে ব্যায়াম করতে পারেন না অনেকেই। পেটের মেদ কমানোর জন্য কিছু ডিটক্স আছে যা বেশ কার্যকর। এমনি এক ডিটক্স হল গ্রিন স্মুদি।

যা যা লাগবে:

১ কাপ আনারস কুচি

১টি বড় কাপ পালং শাক

১টি সবুজ আপেল

১ কাপ ঠান্ডা গ্রিন টি

১ অথবা ২ ইঞ্চি আদা কুচি

১ কাপ নারকেল পানি

১ টেবিল চামচ লেবুর রস

২ চা চামচ মধু

১/২ টা শসা

৬-৮টি পুদিনা পাতা

যেভাবে তৈরি করবেন:

১। ব্লেন্ডারে এক কাপ পালং শাক, আদা কুচি, গ্রিন টি, নারকেলের পানি দিয়ে ব্লেন্ড করুন।

২। তারপর এতে আপেলের কুচি, আনারস কুচি, শসার কুচি দিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন।

৩। এরপর এতে মধু, লেবুর রস, পুদিনা পাতা দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

৪। এটি প্রতিদিন পান করুন।

আপনি চাইলে এটি তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।

যেভাবে কাজ করে:

আনারসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি প্রাকৃতিকভাবে স্মুদি মিষ্টি করে। সবুজ আপেলের পেকটিন, পলিফেনল এবং ফ্লোরিজিডিন পেটের চর্বি কমিয়ে দেয়। গ্রিন টি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের মেদ কাটাতে সাহায্য করে। লেবু পেটের মেদ কাটাতে বেশ প্রচলিত একটি পদ্ধতি। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীর থেকে টক্সিন পর্দাথ, ব্যাকটেরিয়া দূর করে দেয়। পুদিনা পাতার ভিটামিন সি, বিটা ক্যারটিন, কপার, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনাসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।

Thursday, July 21, 2016

মধু দারুচিনি মিশ্রণের অসাধারণ গুণাবলী

sasthobarta protidin
মধু দারুচিনি মিশ্রণের অসাধারণ গুণাবলী
প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ নিজ নিজ গুণে  গুণান্বিত। মধু দারুচিনি রান্নাঘরে অন্যতম দুটি উপাদান। খাবারের গন্ধ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে দারুচিনি বেশ প্রচলিত। আর মধু স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা সমাধান করে থাকে। শুধু মধু নয়, দারুচিনি এবং মধুর মিশ্রণ নানান স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধান করে দেয়। হৃদরোগ থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত প্রায় সবকিছুতে মধু-দারুচিনির মিশ্রণ তুলনাহীন। এই জাদুকরী মিশ্রণের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে আজকের ফিচার।

১। খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে

মধু এবং দারুচিনি উভয় শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে। ৩/৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়োর সাথে ৫ টেবিল চামচ বিশুদ্ধ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এই মিশ্রণটি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

২। হার্ট সুস্থ রাখতে

হার্ট সুস্থ রাখতে দারুচিনি ও মধুর পানির বিকল্প নেই। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস মধু ও দারুচিনি মিশ্রিত পানি পান করলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। এটি ধমনীর ব্লক খুলতে সাহায্য করে।

৩। বাত অথবা আর্থারাইটিসের ব্যথা দূর করা

এক কাপ গরম পানির সাথে দুই চা চামচ মধু এবং এক চা চামচ দারুচিনি মিশিয়ে পান করুন। এটি সকাল এবং সন্ধ্যা দুই বেলা পান করুন। এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান বাতের ব্যথা এবং জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে সক্ষম।

৪। ওজন কমাতে

ওজন কামতে এই মিশ্রণটি জাদুর মত কাজ করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে দারুচিনি এবং মধু দ্রুত চর্বি কমায়। প্রতিদিন দারুচিনি গুঁড়ো ও মধু দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস পানি খালিপেটে পান করুন। এটি দ্রুত ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করবে।

৫। পাকস্থলির ইনফেকশন দূর

মধু এবং দারুচিনির অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল মিশ্রণ পাকস্থলির ইনফেকশন দূর করে। এতে থাকা অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং হিলিং উপাদান পাকস্থলি পরিষ্কার করে থাকে।

৬।  নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

কুসুম গরম পানিতে মধু ও দারুচিনি মেশান। প্রতিদিন সকালে এটি পান করুন। এটি আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করে দেবে।

৭। অবসাদ কাটাতে

এক গ্লাস পানিতে আধা টেবিল চামচ মধু এবং সামান্য পরিমাণ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। আর দেখুন ক্লান্তি অবসাদ কোথায় পালিয়ে যায়।

যে সবজিগুলো সেদ্ধ খাওয়াই ভাল

sasthobarta protidin
যে সবজিগুলো সেদ্ধ খাওয়াই ভাল
সুস্বাস্থ্যের জন্য সবজির তুলনা নেই। রান্না করে হোক কিংবা কাঁচা সবজি যেভাবেই খান না কেন স্বাস্থ্যের জন্য তা উপকারি। প্রচলিত ধারণা মতে কাঁচা সবজিতে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে সেদ্ধ করা সবজির চেয়ে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে কিছু সবজি আছে যা সেদ্ধ করে খাওয়া বেশি ভাল। গবেষকদের মতে সবজি সেদ্ধ করার পর তার ভিটামিন, মিনারেল, অন্যান্য পুষ্টিগুণ অনেকখানি বেড়ে যায়। এই সবজিগুলো সেদ্ধ খাওয়াই বেশি ভাল। এমন কিছু সবজির কথা জানতে পারবেন আজকের এই ফিচার থেকে।

১। বিট

প্রতিদিন একটি বিট খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি রক্ত চলচলা বৃদ্ধি করবে এবং মাসিকের সমস্যা দূর করে। সবচেয়ে ভাল হয়, বিট সিদ্ধ করে খেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে বিট শুধু ৩ মিনিট সেদ্ধ করা উচিত, এর বেশি নয়।

২। গাজর

পানি আর সামান্য পরিমাণ লবণ দিয়ে গাজর সেদ্ধ করুন। চাইলে কিছু মরিচের গুঁড়া দিয়ে দিতে পারেন। এই সেদ্ধ গাজর চোখের জন্য ভালো।

২। আলু

অনেকের পছন্দের সবজি আলু। আলু নানাভাবে রান্না করে খাওয়া হয়। তবে সেদ্ধ করে খাওয়া বেশি ভাল। আলু সেদ্ধ করলে এর ক্যালরির পরিমাণ অনেক খানি কমে যায়। তাই  যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারা সেদ্ধ আলু খেতে পারেন।

৩। ব্রকলি

বিস্বাদ ব্রকলির স্বাদ বেড়ে যায় সেদ্ধ করার কারণে। স্বাদ আরও বেশি বৃদ্ধি করতে চাইলে ব্রকলি সেদ্ধ করার পানিতে এক চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে দিতে পারেন।

৪। পুঁইশাক

আধুনিক গবেষকদের মতে সবুজ শাক সবজি সেদ্ধ করলে এর পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুঁইশাক এবং মেথি শাক সেদ্ধ করে খাওয়া বেশ স্বাস্থ্যকর।

৫। মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। মিষ্টি আলুতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেইড। রান্না  করে খাওয়ার চেয়ে মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে খাওয়া বেশি ভাল।

৬। মটরশুঁটি

সামান্য পরিমাণ লবণ ও মরিচ মিশিয়ে মটরশুঁটি সিদ্ধ করতে পারেন, এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে,মটরশুটি কমপক্ষে ছয় মিনিট সেদ্ধ করা প্রয়োজন।

এছাড়া বাঁধাকপি, ফুলকপি, ভুট্টা ইত্যাদি সবজিগুলো সেদ্ধ খাওয়া ভাল।

সেদ্ধ সবজি খাওয়ার উপকারিতা:

১। সেদ্ধ সবজি অ্যাসিডিটি সমস্যা রোধ করে। গ্যাসের সমস্যা থাকলে সেদ্ধ সবজি খেতে পারেন।

২। সবজি সহজে হজম হয়। জ্বর, ডায়ারিয়ার সময় সেদ্ধ সবজি খাওয়া ভাল।

৩। ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪। কিডনির পাথর দূর করে দেয়।

৫। ত্বক এবং চুলে পুষ্টি যুগিয়ে থাকে।

Wednesday, July 20, 2016

পারফেক্ট বডি শেপের জন্য বদলে ফেলুন কিছু অভ্যাস

sasthobarta protidin
পারফেক্ট বডি
একটা চমৎকার বডি শেপ পাওয়ার আগ্রহ নেই এমন নারী পাওয়া দুষ্কর। আবার না খেয়ে শুকিয়ে গেছেন বা খেয়ে দেয়ে মুটিয়ে গেছেন এমন নারীর সংখ্যাই বেশী। আপনি কি জানেন, আপনার কাংক্ষিত বডি শেপ পেতে শুধু কিছু বদভ্যাস বদলে ফেলাই যথেষ্ট? কিছু বদভ্যাস বদলে ফেলুন আর আয়ত্ত করুন কিছু ভাল অভ্যাস।

হাঁটুন
অফিসে যাচ্ছেন? চট করে রিকশা না নিয়ে হাঁটুন। হাঁটার জন্য না হয় কিছু সময় হাতে নিয়ে বের হলেন! অবশ্যই হাঁটার জন্য ভাল জুতা পড়বেন। নাহলে হাঁটা শুধু ক্যালোরি ক্ষয় করবে আর ক্লান্ত করবে আপনাকে। দুই দিন হেঁটেই আর হাঁটতে যাবেন না আপনি। তাই হাঁটাকে আরামদায়ক করুন। পানি পান করুন। ভাল জুতা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। খুব ভাল হয় সকালে অন্তত ৩০ মিনিট শুধু হাঁটার জন্য আলাদা সময় রাখতে পারলে।

সাঁতার কাটুন
সাঁতার পারেন, অথচ সময়ের অভাবে আর করা হয় না? ভীষণ ভুল করছেন আপনি। নিজেকে দূরে রাখছেন চমৎকার এই শরীরচর্চা থেকে। সপ্তাহে অন্তত একদিন সাঁতার কাটুন। যাদের ব্যাক পেইনের সমস্যা আছে তারা দ্রুতই উপকার পাবেন সাঁতারে। পেশী সুগঠিত হবে, ভাল থাকবেন আপনি।

সাইকেল চালান
ছোট বেলায় সাইকেল চালানো শিখেছেন নিশ্চই। না শিখে থাকলেও কঠিন কিছু নয়। শিখে ফেলুন। সাইকেল চালালে আপনার পায়ের পেশীর ব্যায়াম হয়। প্রতিদিন যদি সাইকেল চালাতে পারেন তাহলে না হাটলেও চলবে। প্রতিদিন না পারলে অন্তত সপ্তাহে ১ দিন সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

খেয়েই ঘুমোতে যাবেন না
আমরা বাঙ্গালীরা খাবার খাই একেবারে ঘুমোতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে। খুবই বাজে অভ্যাস। যে সকল দেশের মানুষের মাঝে ফিটনেস বা সুস্থ্যতার হার বেশী তাদের খাদ্যস্টাইল খেয়াল করলে দেখবেন তারা খাবার গ্রহণ করে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ঘন্টা ২ আগে। জাপান, চীন এদের মধ্যে অন্যতম। এতে খাবার ভাল হজম হয়, আর বাড়তি মেদ তৈরি করে না।

খাওয়ার সময় পানি নয়
পানি পান করা খুবই ভাল অভ্যাস। কিন্তু কিছু সময়জ্ঞান থাকা জরুরি। আপনি যদি খাওয়ার সময় অনবরত পানি পান করেন তাহলে সেটা আপনার হজমে বাধা প্রদান করে। খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে থেকেই পানি পান করা থেকে বিরিত থাকুন। খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।

খেলাধূলা
শরীরের প্রয়োজনেই শরীরকে নাড়ানো দরকার আমাদের। একই রকম কাজ, সারাক্ষণ বসে থাকা সব মিলিয়ে দৈনন্দিন কাজে আমরা যতটা মুভ করি তা আসলে পর্যাপ্ত নয়। এজন্যই শরীরের বিভিন্ন অংশে মেদ জমে যায়। তাই প্রয়োজন খেলাধূলার। ব্যাডমিন্টন, ফুটবল এসব খেলা আপনার মনকেও ভাল রাখবে, এর ফলে শরীরও তরতাজা থাকবে।

নিয়মিত ব্যায়ামে অনুপ্রেরণা পেতে এই ২১টি তথ্যই যথেষ্ট

sasthobarta protidin
নিয়মিত ব্যায়ামে অনুপ্রেরণা পেতে এই ২১টি তথ্যই যথেষ্ট 
এ কথা সবাই জানেন যে, সুস্থ-সবল দেহের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। এ নিয়ে অগণিত গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু এ ঘাম ঝরানো কাজের অনুপ্রেরণা সহজে মেলে না। আবার ব্যায়াম শুরু করলেও তা বেশি দিন নিয়মিত রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে অনুপ্রেরণা ধরে রাখতে বেশ কিছু তথ্য  দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো জেনে নিন, ব্যায়াম করুন এবং সুস্থ থাকুন। 

১. নিয়মিত ব্যায়াম যারা করেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতা এবং দুশ্চিন্তার পেরেশানি অন্যদের তুলনায় কম দেখা যায়। 
২. যে নারীরা বিষণ্নতা থেকে বাঁচতে অ্যান্টিডিপ্রেশান্ট ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। 
৩. শারীরিক ক্রিয়া টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। 
৪. ব্যায়াম উপকারী কোলেস্টরেল বৃদ্ধিতে এবং অপকারী কোলেস্টরেল হ্রাসে কাজ করে। 
৫. গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা অ্যাজমায় ভুগছেন তাদের বায়ুঘটিত প্রদাহ অনেক কম থাকে। 
৬. শক্তি অর্জনের ব্যায়ামের ফলে হাড় শক্ত হয় এবং এতে অস্টেয়োপরোসিসের ঝুঁকি অনেক কমে আসে।
 ৭. যারা খুব বেশি পরিমাণ ব্যায়াম করেন তাদের মধ্যে প্রচুর ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। সম্ভবত তারা রোদে বেশি সময় কাটান। 
৮. অনেকে মনে করেন, ব্যায়ামে বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু হয়। এ ধারণা আসলে ঠিক নয়। আসলে ব্যায়ামে ক্যালোরি পোড়ে। 
৯. এমনকি ইয়োগার মতো নিম্নমাত্রার কায়িক শ্রমের ব্যায়ামেও হৃদযন্ত্র সুস্থতা পায়। হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। 
১০. নিয়মিত ব্যায়ামে মানসিক চাপ কমে আসে। 
১১. স্বল্প সময়ের কার্ডিও ট্রেনিংয়েও চর্বি ঝরতে পারে এবং ওজন কমে আসে। 
১২. ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার দেহ আরো বেশি প্রতিকূল অবস্থায় মানানসই হয়ে উঠবে। এতে দেহের ওপর অনেক বেশি ভারসাম্য আসবে। ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা পাবেন। 
১৩. রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় নিয়মিত ব্যায়ামে। এতে যেকোনো সাধারণ সংক্রমণ থেকে রক্ষা মেলে অন্যদের তুলনায় বেশি। 
১৪. স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক অ্যারোবিক এক্সারসাইজ। তাই এই ব্যায়াম বয়স্কদের জন্যে দারুণ উপকারী।    
১৫. দৈহিকভাবে ফিট থাকলে মনটাও ফিট থাকে। এতে দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়। যারা সপ্তাহে ৭ ঘণ্টা ব্যায়াম করেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা মানুষের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম থাকে। 
১৬. আমেরিকার ক্যান্সার আক্রান্তদের এক-তৃতীয়াংশের কারণ হিসাবে খাবার ও ব্যায়ামকে দায়ী করা হয়। এ তথ্য জানায় আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। 
১৭. অফিসে কাজ করতে করতে অস্থির হয়ে পড়েছেন? একটু হেঁটে আসুন। এতে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে পড়ার হাত থেকে বেঁচে যাবেন। 
১৮. আত্মবিশ্বাস ও নির্ভরতা মেলে ব্যায়াম থেকে। 
১৯. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) ঝুঁকি থেকে মুক্তি মেলে। এ সমস্যায় আক্রান্ত হলে মানুষ কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারে না। আবার নিজের আচরণেও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। 
২০. শরীরচর্চা করলে স্বাস্থ্যকার ঘুম আসে। 
২১. ব্যায়ামে এন্ড্রোফিনস হরমোনের ক্ষরণ ঘটে। এটি দীর্ঘমেয়াদি সুখ আনে।

প্রাকৃতিক উপায়ে দূর করুন যন্ত্রণাদায়ক গলা ব্যথা

sasthobarta protidin
প্রাকৃতিক উপায়ে দূর করুন যন্ত্রণাদায়ক গলা ব্যথা
কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে শুরু হয়ে যেতে পারে গলা ব্যথা। অ্যালার্জি, শুষ্ক বাতাস, দূষণ, ঠান্ডা, ফ্লু ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে গলায় ইনফেকশন দেখা দেয়। যা গলা ব্যথা সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে এই গলা ব্যথা মারাত্নক হতে পারে। সবসময় এই গলা ব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। কষ্টকর এই ব্যথা দূর করতে পারেন ঘরোয়া কিছু উপায়ে।

১। লেবু

গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এটি আস্তে আস্তে পান করুন। এছাড়া সমপরিমাণ গরম পানি এবং লেবুর রস মিশিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। এটি দ্রুত গলা ব্যথা কমিয়ে দেবে। এছাড়া অর্ধেকটা লেবুর রস, লবণ এবং গোল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন।

২। হলুদ পানি

হলুদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে যা ব্যথা উপশম করে থাকে। ১ কাপ গরম পানিতে, ১/২ চাচমচ হুলুদ গুঁড়া এবং ১/২ চাচমচ লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলকুচি করুন। কিছুক্ষণের মধ্যে গলা ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং এক চা চামচ গোল মরিচের গুঁড়ো গরম দুধের সাথে মিশিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন।

৩। রসুন

কাঁচা রসুনের উপাদান অ্যালিসিন নামক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়। প্রতিদিন কাঁচা রসুন খান। এছাড়া এক চুর্থতাংশ পানিতে কয়েক ফোঁটা রসুনের তেল মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এটি দিনে প্রতিদিন একবার করুন। রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান গলা ব্যথা কমিয়ে দেয়।

৪। আদা, মধু লেবু পানি  

এক চাচামচ আদা পাউডার/কুচি, মধু,  আধা কাপ গরম পানি, দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। প্রথমে আদাপানি দিয়ে কুলকুচা করুন তারপর লেবুর রস, মধু, দিয়ে কিছুক্ষণ কুলকুচি করে নিন। এটি আপনার গলা ব্যথা কমানোর সাথে সাথে আপনার গলা পরিষ্কার করে দেবে।

৫। লবণ পানি

গলা ব্যথা দেখা দিলে তা দূর করার জন্য লবণ পানি ব্যবহার হয়ে আসছে। এক কাপ গরম পানির মধ্যে দুই চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। দিনে ৩-৪ বার এই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে গলার ফারিংগাল অঞ্চলের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর ফলে ভেতরে জমে থাকা ঠান্ডা কফ বের হয়ে এসে গলা পরিস্কার করে ফেলে। এছাড়া গলার ইনফেকশন অবস্থারও উন্নতি করে। ফলে গলাব্যথা কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্মূল হয়ে যায়।

৬। মধু

মধু মিশ্রিত চা অথবা সরাসরি মধু গ্রহণ গলা ব্যথা কমিয়ে দেয়। কাশি, ঠান্ডা, গলাব্যথা সাধারণত রাতের বেলায় বেশি হয়ে থাকে। মধু এটি কমাতে সাহায্য করে।

৭। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, এক টেবিল চামচ মধু এবং এক কাপ গরম পানি মিশিয়ে পান করুন। এর অ্যাসিডিক উপাদান গলার ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়। এটি যখন মধুর সাথে মিশে, তখন গলা ব্যথা দ্রুত কমিয়ে দেয়।

Tuesday, July 19, 2016

সুস্বাস্থ্যের জন্য ১০ পরামর্শ

sasthobarta protidin
সুস্বাস্থ্যের জন্য ১০ পরামর্শ
একটু সতর্ক থাকলে, একটু সচেতন হলে দৈনন্দিন কিছু কাজে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য মেলে, তেমনি স্বাস্থ্য সুরক্ষাও সম্ভব হয়। এখানে তেমন ১০টি পরামর্শ:

১. তেলের জন্য স্প্রে বোতল
অতিরিক্ত তেল কোনো কিছুতেই ভালো নয়। না বস আর কর্মীর সম্পর্কে, না রান্নায়। রান্নায় পরিমাণ মতো তেল ব্যবহার করতে হলে কী করবেন? স্প্রে বোতল ব্যবহার করুন। পরিমাণমতো তেল ঢালতে এটা বেশ কাজে দেবে।

২. রান্না করুন ওভেনে
যেকোনো খাবার ভাজার চেয়ে বেক (ঝলসানো বা সেঁকা) করা উত্তম। ভাজলে খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। তাই সুযোগ থাকলে খাবারটি ওভেনে বেক করে নিন।

৩. গরম পানিতে সবজি
সবজির সবটুকু পুষ্টি পেতে চাইলে গরম পানিতে সেদ্ধ করুন। মনে হতে পারে, এ আর নতুন কী! গরম পানি বলতে পানি আগে গরম করে নিতে হবে, তারপর সেখানে ঢালতে হবে সবজি। সবজি ও পানি একসঙ্গে গরম করলে সবজির পুষ্টিগুণ কমে যায়।

৪. মাখনের জায়গায় তেল
পেস্ট্রি বা অন্যান্য ডেজার্টে মাখনই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এর বদলে আমন্ড বা নারকেল তেল মন্দ নয়। শরীরের মেদ ঝরাতে এটা দারুণ কাজে দেবে।

৫. ছোট প্লেট-বাটি কিনুন
পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেলে ভীষণ সমস্যা। এ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় আছে অনেক। তবে প্রথমেই আপনি আপনার প্লেট-বাটির আকার কমাতে পারেন। এ জন্য আকারে ছোট প্লেট-বাটি কিনলেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৬. রান্নার আগে মাছের পরীক্ষা
রান্না করার আগে মাছের পরীক্ষা নিন। পরীক্ষার জন্য মরা মাছটাকে পানিতে ছেড়ে দিতে হবে। মাছটা ডুবে গেলে পরীক্ষায় উতরে গেল। আর ভেসে থাকলে সেটা না খাওয়াই ভালো।

৭. ধীরে খান
রাস্তার পাশে লেখা থাকে—ধীরে চলুন। বিশেষজ্ঞরা খেতেও বলেন ধীরে। কারণ, ধীরে খেলে এবং খাবার ঠিকঠাকমতো চিবোলে পাকস্থলী বেশ খানিকটা সময় পায়। কিসের সময়? খাবার সময় পাকস্থলী মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে আপনার আরও খাবার খেতে হবে কি হবে না। দ্রুত খেলে অধিকাংশ সময়ই পাকস্থলী সেই সময়টা পায় না, ফলে আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি!

৮. টমেটো-শসা একসঙ্গে নয়
টমেটো আর শসা—এ যেন সালাদের অমর জুটি! কিন্তু এই জুটি ভালোর চেয়ে মন্দই বেশি করে। শসায় এমন কিছু উপাদান আছে, যা অন্য কোনো খাবার গাঁজিয়ে তুলতে পারে। তাই টমেটোর সঙ্গে সালাদে শসা থাকলে সেটা টমেটোর অ্যাসকোরবিক অ্যাসিড (ভিটামিন ‘সি’) ধ্বংস করে দেয়! মানে টমেটোর আসল গুণটাই থাকে না!

৯. কাঁচা ফল ও সবজি খান
সবজি, বিশেষ করে ফল খেতে চাইলে কাঁচাই খান। সবজি হয়তো সব সময় কাঁচা খাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সম্ভব হলে খেতে অসুবিধা নেই। বরং এতে উপকার অনেক বেশি। কাঁচা ফল-সবজিতে অনেক বেশি পরিমাণে সেলুলোজ থাকে। যেটা আমাদের হজমপ্রক্রিয়া ভালো করে পাশাপাশি শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলো বিশোষণ করে। সেদ্ধ করে খেলে যা পাবেন না।

১০. চিনির ভালো বিকল্প
একটা বয়স পর্যন্ত চিনি শরীরের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু যেই না আপনি একটু পরিণত, চিনি যেন শত্রুকে পরিণত হলো! তাই চিনির ভালো বিকল্প খুঁজতেই হয়। মধু এ ক্ষেত্রে ভালো একটা বিকল্প। তবে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করতে চাইলে সেটা গরম না করাই ভালো। কারণ, অতিরিক্ত তাপে মধুর গুণাগুণ লোপ পায়।

বর্ষায় যত সমস্যা

sasthobarta protidin
বর্ষায় যত সমস্যা
বর্ষায় কদম ফুল দেখবেন, হয়তো হাতে নিয়ে ঘুরবেনও। বেলি ফুলের মালাও হয়তো কেউ হাতে জড়াবেন। কেউ আবার শখের বশে বৃষ্টিতে ভিজবেন। তবে খেয়াল রাখুন, ভেজা অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়। এতে নানা সমস্যা হতে পারে। শ্বাসনালি, সাইনাস, স্বরযন্ত্র, টনসিল বা গলনালিতে প্রদাহ হতে পারে। সর্দি, নাক বন্ধ ভাব, কথা বললেই কাশির দমক, গলা খুসখুস, ঢোঁক গিলতে অসুবিধা, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, জ্বর জ্বর ভাব, হালকা ম্যাজমেজে ভাব হতে পারে।
করণীয়
*ছাতা নিয়ে বাইরে বেরোবেন। হঠাৎ ভিজে গেলে ঝটপট শরীর ও চুল শুকিয়ে নিতে চেষ্টা করুন।
*হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের এ সময় ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁদের ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য ওষুধেরও প্রয়োজন হতে পারে।
*হাঁচি, সর্দি বা ঠান্ডা লাগার সাধারণ উপসর্গগুলো দেখা দিলে অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন না করাই ভালো। জ্বর হলে প্যারাসিটামল সেবন করুন। কণ্ঠস্বর ভেঙে গেলে স্বরকে বিশ্রাম দিন।
*জীবাণুর সংক্রমণ না হয়ে থাকলে দু-তিন দিনেই ঠান্ডা লাগার অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না।
*বর্ষায় ঘরের ভেতর স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। তাই জানালা খোলা রাখুন। তবে খেয়াল রাখুন, যেন বৃষ্টির পানিতে বিছানা বা কার্পেট ভিজে না যায়। আলমারি বা খাটের কোণে যেন পানি জমে না থাকে।
*কেঁপে কেঁপে জ্বর; বুকে ব্যথা কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে; কাশির সঙ্গে কফ বা রক্ত বেরোলে
*দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা-কাশি বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়ার সমস্যার উপশম না হলে
*টনসিলে জীবাণুর সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমা হলে

অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

Tuesday, June 28, 2016

কেমন হবে ঈদের মেকআপ

sasthobarta protifdin
কেমন হবে ঈদের মেকআপ
পাশ্চাত্যে প্রতিবছরই মেকআপ, পোশাকের রং ও স্টাইলের একেকটি ধারা চালু হয়। এবারের ঈদে আমাদের দেশে চলতি বিশ্ব ফ্যাশনের প্রভাব পড়বে, নাকি পড়বে না, তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। পোশাকে অতটা না হলেও মেকআপে বেশ কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শুধু একটি নয়, বেশ কিছু মেকআপ ট্রেন্ড এবার অনুসরণ করা হবে। আবহাওয়া ও নিজের পছন্দের সঙ্গে মিল রেখে বেছে নিতে পারেন যেকোনো একটি ট্রেন্ড।

ঈদে এবার লিপস্টিকের ক্ষেত্রে কেউ উজ্জ্বল টোন প্রাধান্য দেবেন, কেউ আবার বেছে নেবেন কালচে টোন। বিশ্ব ফ্যাশনেও এখন কালচে টোন বেশি চলছে। রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন মনে করেন, চেহারায় আধুনিক ভাব আনতে চাইলে গাঢ় টোনের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। হালকা বা গাঢ় রঙের পোশাকের সঙ্গে গাঢ় টোনের লিপস্টিক মানিয়ে যাবে। তবে রংটি কে কতটা বহন করতে পারছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গাঢ় বেগুনি, গাঢ় মেরুন, গাঢ় কফি রংগুলো বেশ চলছে। কেউ যদি গাঢ় টোনে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তাহলে তিনি কমলা, পিচ, বেইজ, লাল, গোলাপি রংগুলো বেছে নিতে পারেন।

চোখে দুই ধরনের ট্রেন্ডের কথা জানালেন রূপবিশেষজ্ঞরা। একদিকে খুব গ্লিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, বেগুনি, ম্যাজেন্টা ইত্যাদি। শুধু তাই নয়। উজ্জ্বল রং ছাড়াও গ্লিটার ব্যবহার করা যাবে ইচ্ছেমতো। চাইলে কেউ চোখ-ঝলসানো নানা রঙের গ্লিটার দিয়েই চোখ সাজাতে পারেন। চিকন রেখার টান কিংবা চোখজুড়েই থাকতে পারে চিকমিক ভাব।

রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নী জানালেন, শুধু একটি রং দিয়ে চোখ সাজানোর ট্রেন্ডও এখন চলছে। উজ্জ্বল সব রং বেছে নেওয়া হচ্ছে এ ক্ষেত্রে। একটু অমসৃণ, আঁকাবাঁকাভাবে আইশ্যাডো লাগালেও খুব একটা খারাপ লাগবে না। তবে ব্লেনডিং ভালোভাবে করতে হবে।

এদিকে ডিভাইন বিউটি লাউঞ্জের মেকআপ বিশেষজ্ঞ বাপন রহমান জানালেন ভিন্ন কথা। তাঁর মতে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব ফ্যাশন অনুযায়ী চোখের মেকআপ হবে হালকা। লিপস্টিকটা হতে পারে ভারী কোনো রঙের। সেই সঙ্গে কমপ্যাক্ট আইশ্যাডো ব্যবহারের কথাও বললেন বাপন। কাজল ও মাসকারা ভারী করে দিয়ে আইশ্যাডো হালকা রঙের বেছে নিতে পারেন। সাদা রঙের কাজল ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ। এতে করে ছোট চোখ দেখতে বড় লাগবে।

রং আপনি যেটাই বাছুন, ফাউন্ডেশন হালকা রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফাউন্ডেশন যত হালকা ও মসৃণ হবে, দেখতে ততটাই সতেজ লাগবে। প্রয়োজন না পড়লে প্যানকেক একদমই ব্যবহার করবেন না। বারবার সবাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন গরমের কথা। তাই কমপ্যাক্ট পাউডার অথবা লুজ পাউডার ভালোভাবে ব্লেন্ড করে দিতে হবে।

সংগ্রহঃ প্রথম আলো। 

যে ৫ টি খাবার আপনাকে স্লিম হতে সাহায্য করবে

sasthobarta protidin
যে ৫ টি খাবার আপনাকে স্লিম হতে সাহায্য করবে
আপনি যখন আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তখন সঠিক খাবার খেয়ে পেট ভরা রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার আপনার কোমরের মেদ কমতে সাহায্য করে আবার কিছু খাবার আছে যা কয়েক পাউন্ড ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সাধারণত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার আপনাকে পাতলা হতে সাহায্য করে কারণ তাদের ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার পাশাপাশি পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। পুষ্টিতে ভরপুর খাবার হচ্ছে- শাকসবজি, ফল, আস্ত শস্য, শিম জাতীয় খাবার এবং চর্বিহীন প্রোটিন। ওজন কমাতে সাহায্য করবে এমন কিছু খাবারের কথাই জেনে নিব আজ।

১। আপেল

ডায়াটারি ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস হচ্ছে আপেল। ডায়াটারি ফাইবার শুধু পরিপাক তন্ত্রকে সুস্থ রাখতেই সাহায্য করেনা কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে। আপেল পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। অ্যাপেটাইট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যে সকল নারী দৈনিক ৩ টি আপেল বা ৩ টি নাশপাতি খান তাদের ওজন বেশি কমে যারা ৩ টি ওটস কুকিজ খান তাদের চেয়ে। যদিও ফল ও কুকিজে একই পরিমাণ ডায়াটারি ফাইবার থাকে। “গ্রিথ কন্ট্রোল :  দ্যা সাইন্স অফ ফ্যাট লস এন্ড মাসেল গেইন” বইটির লেখক ও পুষ্টিবিদ অ্যালান অ্যারাগন এর মতে, কুড়মুড়ে খাবার মানুষকে পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। চাবানোর ফলে শরীর থেকে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। এর ফলে আপনি যা খেয়েছেন তারচেয়ে অনেক বেশি খেয়েছেন বলে মনে হবে এবং ক্ষুধাকে দূর করে দেবে।  

২। কাঠবাদাম

আপনি যদি স্ন্যাক্স হিসেবে সুস্বাদু কিছু চান তাহলে একমুঠো কাঠবাদাম হতে পারে আদর্শ খাবার। ২০০৯ সালে “দ্যা আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন” এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যে সকল নারীরা সপ্তাহে অন্তত ২ দিন বাদাম খান তারা যারা খান না তাদের চেয়ে বেশি ওজন কমাতে সফল হন। ১ আউন্স কাঠবাদামে ১৬৭ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে ৬ গ্রাম প্রোটিন ও ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে যা আপনাকে পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। 

৩। ডিম

এতে কোন সন্দেহ নেই যে ফাইবারের মত প্রোটিনের তৃপ্তি দানকারী ক্ষমতা আছে। গবেষণায় জানা  যায় যে, সকালে ডিম খেলে সারাদিনে ওজন বৃদ্ধির সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। “ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অবেসিটি” তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় যে, যারা সকালের নাশতায় ২ টি ডিম খায় সপ্তাহে ৫ দিন, তাদের ৬৫% ওজন কমে। ডিমের কুসুমে যে প্রোটিন থাকে তা  গ্লুকাগন হরমোনের নিঃসরণকে উদ্দীপ্ত করে যা ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে বিশেষ করে পেটের মেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই শুধু ডিমের সাদা অংশ নয় কুসুমসহ ডিম খান।    

৪। টমাটো

বেশিরভাগ সবজিই আপনাকে শুকাতে সাহায্য করবে। তবে টমাটোর কথা উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে এটি খুবই সুস্বাদু। এক কাপ রান্না করা টমাটতে মাত্র ৪৩ ক্যালরি থাকে। কিন্তু অন্য যেকোন উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবারের চেয়ে বেশি সুস্বাদু হচ্ছে টমাটো।

৫। দই

দই আপনাকে শুকাতে সাহায্য করবে কারণ এতে ক্যালসিয়াম আছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, দই স্থূলতার ঝুঁকি কমায়। দই এর আইসোক্যালরিক সাবস্টিটিউশন মেদ কমতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পাশাপাশি ব্যায়াম করাও ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয়। উপরোল্লেখিত খাবার গুলো ওজন কমাতে সাহাজ করে কারণ এগুলো ফাইবার বা প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো পরিতৃপ্তি দিতে পারে অর্থাৎ এগুলো খাওয়ার পর আপনি ক্ষুধা অনুভব করবেন না। তাই ওজন কমাতে চাইলে এই খাবার গুলো খান।

Monday, June 27, 2016

ঝটপট বাথরুম পরিষ্কারের সহজ কিছু কৌশল

sasthobarta protidin
ঝটপট বাথরুম পরিষ্কারের সহজ কিছু কৌশল
বাইরে সারাদিন কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়ে সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি ফিরে কার ইচ্ছে করে ঘর পরিষ্কার করতে? কিন্তু যতই ইচ্ছে না করুক এটা তো মানবেন যে দৈনন্দিন আরো দশটা কাজের মতন ঘরের সাফ-সাফাই করাটাও অত্যন্ত জরুরী একটি কাজ? আর সেটা জরুরী আমাদের নিজেদের ভালো থাকার জন্যেই। বিশেষ করে রান্নাঘর, বাথরুম আর ডাইনিংয়ের মতন স্থানগুলোতো কিছুদিন পরপরই পরিষ্কার করা উচিত। কিন্তু সময়? এতকিছু করার সময় পাওয়া যাবে কোথা থেকে? এটাই তো ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্যেই আজ দেওয়া হল খুব সহজে ঝটপট বাথরুম পরিষ্কারের কিছু সাহায্যকারী কৌশল।

একটি বাথরুমে কোন কোন জিনিসগুলো সাধারণত পরিষ্কার করার দরকার পড়ে?

১. ঝাপসা কাঁচ

২. এখানে ওখানে ছড়িয়ে পড়া সাবানের দাগ ও পানি দ্বারা তৈরি জং কিংবা মরচে

৩. ট্যাপের পানি পড়ে তৈরি হওয়া বাদামী দাগ

৪. বাথরুমে হঠাত্ করেই তৈরি হওয়া আজগুবী সব দাগ

৫. চুল, ফেনা, শ্যাম্পুর ফেলে দেওয়া অংশসহ সমস্ত আবর্জনা ইত্যাদি।

এই সমস্ত ঝামেলাকে খুব দ্রুত দূর করার জন্যে নীচে দেওয়া হল খুব উপকারী কিছু বাথরুম পরিষ্কারের কৌশল।

১. ঝাপসা কাঁচ

ঝাপসা কাঁচকে নিমিষে খুব বেশি ডলাডলি ছাড়াই চকচকে করে তুলতে প্রথমে একটি গ্লাসে অর্ধেকের একটি বেশি ঠান্ডা পানি নিয়ে তিনটি ব্ল্যাক টি ব্যাগ তাতে চুবিয়ে নিন। এবার সেই মিশ্রণ আপনার বাথরুমের ঝাপসা কাঁচে ছিটিয়ে নিয়ে সেটাকে খবরের কাগজ দিয়ে মুছে ফেলুন। দেখুন কেমন দারুন চকচকে হয়ে গিয়েছে আপনার বাথরুমের কাঁচ!

২. বাদামী ছোপ, জং কিংবা দাগ

বেসিনে বাদামী দাগ হয়ে গিয়েছে? একটি পাত্র নিয়ে তাতে অর্ধেক ভিনেগার এবং অর্ধেক থালা বাসন মাজার তরল সাবান মিশিয়ে নিন। এবার সেটা একটি শক্ত মুছনীতে লাগিয়ে নিয়ে দাগ পড়া স্থানে ঘষুন। দেখবেন দাগ চলে গিয়েছে। এছাড়া যেকোন রকমের জং কিংবা খসখসেভাব দূর করতে খানিকটা লেবুর রস সেখানে ঘষুন। এরপর সেটাকে পরিষ্কার করে ফেলুন। এছাড়াও যদি পানির কলের ভেতরে শক্ত রকমের জং ও দাগ দেখতে পান আপনি তাহলে একটি তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে জংধরা স্থানগুলো মুড়িয়ে নিন। এরপর সেটার ওপরে ভিনেগার ঢালুন। কাপড় বা তোয়ালেটিতে ৩০ মিনিট সেভাবেই রেখে দিন। ৩০ মিনিট পর উঠিয়ে দাগ ও জংপড়া স্থানটিকে ভালোভাবে ঘষুন। পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৩. টয়লেট

সবসময় ব্যবহৃত এই স্থানটিকে পরিষ্কার করার জন্যে খুব বেশি কষ্ট করতে হবেনা আপনার। এজন্যে শুধু ভিনেগার এবং কয়েকটুকরো কাগজই সাহায্য করতে পারে আপনাকে। প্রথমে ফ্ল্যাশের ভেতরে খানিকটা ভিনেগার ঢেলে দিন। এবার উপরে যেভাবে দেখানো হয়েছে সেভাবেই কাগজে ভিনেগার ঢেলে সেটা কমোডের কোনায় রাখুন। বাকীটা অংশ ভিনেগার দিয়ে মোছা হয়ে গেলে সাত মিনিট পর কাগজগুলো ব্রাশ দিয়ে বের করে আনুন আর ভিনেগার দিয়ে একটি টুথব্রাশ ভিজিয়ে সেটা দিয়ে বাকীটা পরিষ্কার করুন। এবার সবটা শেষ হয়ে গেল ফ্ল্যাশ করুন।

৪. লুকিয়ে থাকা আবর্জনা

সামনে থাকা আবর্জনাতো আপনি ইচ্ছে করলেই তুলে ফেলতে পারেন। তবে সেই আবর্জনাগুলো যেগুলো লুকিয়ে থাকে বেসিনসহ এমনকিছু স্থানে যা ইচ্ছা করলেও বের করে নিয়ে আসা সম্ভব না সেগুলো দূর করতে আপনার ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটিকে নিয়ে কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে তাতে টেপ আটকে নিন আর সেই ময়লা-আবর্জনাগুলোকে বের করে নিয়ে আসুন।

যে ৫টি ভিটামিন সব নারীদের গ্রহণ করা উচিত

sasthobarta protidin
যে ৫টি ভিটামিন সব নারীদের গ্রহণ করা উচিত
আধুনিক নারীদের বাইরের কাজের পাশাপাশি ঘরেও কাজ করতে হয়। ব্যস্ত এই জীবনে এত কাজের ভিড়ে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে ঠিকমত খেয়াল রাখতে পারেন না অনেক নারীরাই। আবার স্বাস্থ্যসচেতন নারীরা স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলতে পছন্দ করেন। তবে কিছু ভিটামিন অব্যশই ডায়েট চার্টে থাকা উচিত। এই ভিটামিনগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে নানা শারীরিক সমস্যা সমাধান করে থাকে।

১। ভিটামিন এ

সব বয়সী নারীদের জন্য ভিটামিন এ প্রয়োজনীয়। এটি হাড়, দাঁত মজবুত করে। এর সাথে টিস্যু , ত্বক এবং পেশী মজবুত করে থাকে। নিয়মিত গ্রহণে ভিটামিন এ দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার ঝুঁকি কমায়, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়, বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে। টমেটো, তরমুজ, পেয়ারা, ব্রকলি, পেঁপে, দুধ, কলিজা ইত্যাদি খাবারে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে।

২। ভিটামিন ডি

ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং মিনারেল সমৃদ্ধ ভিটামিন ডি সামুদ্রিক মাছ, ফ্যাটি ফিশ, ডিম, দুধ ইত্যাদি খাবারে রয়েছে। এটি পিএমএসের লক্ষণ কমিয়ে দেয়। নিয়মিত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা হাড়ের সমস্যা অস্টিওপরোসিস রোধ করে।

৩। ভিটামিন বি

ভিটামিন বি মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয় এমনটি বলেন Mary Ellen Camire, University of Maine এর পুষ্টিবিদ। বি৬ লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করে। ভিটামিন বি৯ ফলিক এসিড নামে পরিচিত যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ,  ডিপ্রেশন, ক্যান্সার ও মেমোরি লস প্রতিরোধ করে। ভিটামিন বি৬ ডিপ্রেশন, হৃদরোগ এবং স্মৃতি হারানোর সমস্যা কমতে সাহায্য করে। মাছ, মাংস, বিনস, সবজি, ওটমিল ফল ইত্যাদি ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৯ ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি৭ ইত্যাদি খাবার রাখা প্রয়োজন।

৪। ভিটামিন ই

বয়স বৃদ্ধি রোধ, হার্ট সুস্থ রাখা, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ত্বক এবং চুল সুস্থ রাখতে ভিটামিন ই অপরিহার্য। বাদাম, কর্ লিভার অয়েল, পালং শাক, সানফ্লাওয়ার সিডস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে।

৫। ভিটামিন সি

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি বেশ উপকারী। এটি দেহের অভ্যন্তরীণ টিস্যুর উন্নতি করে, বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কমলা, আঙ্গুর, জাম্বুরা, স্ট্রবেরি, ব্রকলি ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন সি রয়েছে।

Wednesday, June 22, 2016

জামের যত পুষ্টিগুণ

sasthobarta protidin
জামের যত পুষ্টিগুণ
এখন চলছে সবরকম মৌসুমী ফলের ভরা মৌসুম। এখন যত্রতত্র মিলছে আম, জাম, কাঁঠালসহ অন্যান্য সব ধরনের মিষ্টি ফল। 
এর মধ্যে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু একটি হচ্ছে জাম। কালো রঙের এই ফলটিতে কী কী পুষ্টিগুণ ও খাদ্য গুণ আছে তা নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো : 
১.কাঁচা জামের পেস্ট পেটের জন্য উপকারী। এতে  পেটের রোগ সেরে যায়। ক্ষুধামন্দা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে জামের আচার পানির মধ্যে সমপরিমাণে মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যা খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। 
২. বর্তমানে কিছু দেশে জাম দিয়ে বিশেষ ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে, যা ব্যবহারে চুল পাকা বন্ধ হবে। 
৩. গলার সমস্যার ক্ষেত্রে জাম ফলদায়ক। জাম গাছের ছাল পিষে পেস্ট তৈরি করে তা পানিতে মিশিয়ে মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে গলা পরিষ্কার হবে, মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে, মাড়িতে কোনো সমস্যা থাকলে তাও কমে যাবে। 
৪.  জামে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন 'সি'। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সময় জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রবণতা বাড়ে, জামে এটি দূর হয়। 
৫. জামের ভিটামিন ‘এ’ চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সঙ্গে স্নায়ুগুলোকে কর্মক্ষম রেখে দৃষ্টিশক্তির প্রখরতা বাড়ায়। 
৬. জামে থাকা গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরেও শক্তি সঞ্চিত করে। 
৭. দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করতে খেতে পারেন জাম। জামের উপাদানগুলো ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। 
৮. ক্যান্সারের জীবানু বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ক্ষমতা আছে জামের। বিশেষ করে মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর। 
৯. জামে থাকা ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিনগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। 
১০. জামের উপাদানগুলো মেমোরি সেলগুলোকে উজ্জীবিত করে স্মৃতিশক্তি বাড়তে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 
১১. নিয়মিত জাম খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। জাম ডায়াটরি ফাইবারে পূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে যাঁরা ভুগছেন, তাঁরাও জাম খেলে উপকার পাবেন। 
১২. যাদের কোনো কিছুই মুখে রোচে না, তারা রুচি ফিরিয়ে আনতে জাম খেতে পারেন। ভ্রমণজনিত বমিভাবও দূর করে এই ফল। 
১৩. যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত জাম খেতে পারেন। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে জামের জুড়ি নেই। 
১৪. নিয়মিত জাম খেলে হৃদরোগ এড়ানো যায়। ১৫. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও আছে সুখবর। রক্তে চিনির মাত্রা সহনীয় করে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে জামের জুড়ি নেই।